হোম > শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা: যোগ্যতা, কাগজপত্র ও আবেদনের খুঁটিনাটি

আব্দুর রাজ্জাক খান

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নত গবেষণার সুযোগ এবং বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যান। ২০২৬ সালে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এফ-১ ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি নিয়ে থাকছে আজকের আয়োজন।

এফ-১ বা F-1 ভিসা কী

এফ-১ ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ইংরেজি ভাষা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসাধারীরা সেমিস্টার চলাকালে ক্যাম্পাসে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকে।

এফ-১ ভিসার যোগ্যতা

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা পেতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে তিনি সত্যিকার অর্থেই পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করবেন এবং নিজের ব্যয়ভার বহনে সক্ষম।

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের এসইভিপি (স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম) অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান তাকে I-20 ফরম দেবে।
  • শিক্ষার্থীর টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ বহনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। এর মধ্যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পনসরশিপ লেটার বা স্কলারশিপ ডকুমেন্ট উল্লেখযোগ্য।
  • টোয়েফল বা আইইএলটিএসের মতো আন্তর্জাতিক পরীক্ষার ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।
  • পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফেরার অভিপ্রায় এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দেখাতে হয়।

কয়েক ধাপে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা পেতে কয়েকটি ধাপে আবেদন করতে হয়।

  • ধাপ ১: প্রথমে এসইভিপি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠান আপনাকে I-20 ফরম দেবে।
  • ধাপ ২: এসইভিপি I-901 ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ফি পরিশোধ করে রসিদ সংরক্ষণ করতে হয়। এটি ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় প্রয়োজন পড়ে।
  • ধাপ ৩: অনলাইনে DS-160 ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য প্রদান এবং ছবি আপলোড করতে হয়। এরপর কনফার্মেশন পেজ প্রিন্ট করে রাখতে হয়।
  • ধাপ ৪: যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রোফাইল তৈরি করে ভিসা ফি পরিশোধের পর সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করতে হয়।
  • ধাপ ৫: সাক্ষাৎকারের আগে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয় এবং নিজের শিক্ষাগত পরিকল্পনা ও আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় বৈধ পাসপোর্ট, DS-160 কনফার্মেশন পেজ, এসইভিপি ফি রসিদ, I-20 ফরম, ভিসা আবেদন ফি রসিদ, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও পরীক্ষার ফল, নিজ দেশে ফেরার পরিকল্পনার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি

ভিসা সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা সাধারণত শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্য, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় সব প্রশ্নের উত্তর সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়া উচিত। কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পরিকল্পনাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।

ভিসা অনুমোদনের পর করণীয়

ভিসা অনুমোদিত হলে শিক্ষার্থীকে কোর্স শুরুর ৩০ দিনের বেশি আগে নয়, এমন সময়ের মধ্যে টিকিট বুক করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজের আগমনের বিষয়টি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে আবাসন ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত প্রস্তুতিও সম্পন্ন করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর করণীয়

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন বজায় রাখা এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের নিয়ম মেনে চলতে হয়। ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে পূর্বানুমতি নিতে হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পড়াশোনার অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান এবং অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পড়াশোনা শেষে নিজ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ মাস কাজের সুযোগ পান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ সময়সীমা অতিরিক্ত ২৪ মাস পর্যন্ত বাড়ানো যায়। সফল ভিসা নিশ্চিত করতে আবেদনের প্রক্রিয়া আগেভাগে শুরু করা, সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে দেওয়া, সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আসছে নতুন ভিসা নীতি

যুক্তরাষ্ট্র সরকার শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে কিছু নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে। তবে সেগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। তাই বর্তমানে প্রচলিত নিয়মই বহাল রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস (ডি/এস)’ ব্যবস্থা বাতিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। চার বছরের বেশি সময় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া কোর্স শেষে বর্তমানে থাকা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করা হতে পারে। পাশাপাশি স্ট্যাটাস নবায়নসহ কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এইচএসসি বিশেষ পরামর্শ: পরিকল্পিত প্রস্তুতিই প্রত্যাশিত সাফল্য আনবে

এইচএসসি বিশেষ পরামর্শ: হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে ভালো করার উপায়

মতিঝিল আইডিয়ালে নতুন অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ

সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে ইউএফটিবিতে আধুনিক ল্যাব উদ্বোধন

এবার মনিপুর স্কুলে শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শিক্ষক নিয়োগ

জবিতে দুই দিনব্যাপী সংগীত উৎসব শুরু

নকল পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্কুল-কলেজের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু ১ জুলাই

কানাডার সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তির সুযোগ

পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ জবি শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম