হোম > শিক্ষা

নতুন ভাষা আয়ত্ত করার ৮ কার্যকর ধাপ

শিক্ষা ডেস্ক

ছবি: এআই

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা এখন আর কেবল শখ নয়; বরং সময়ের দাবি। বিশেষ করে বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি শেখার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ারের উন্নয়ন কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধন—সবখানেই ইংরেজি এক অপরিহার্য চাবিকাঠি।

দেশের বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ ১২ বছর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের পরও ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে বা লিখতে গিয়ে হোঁচট খান। এর প্রধান কারণ সম্ভবত আমাদের শেখার পদ্ধতির ত্রুটি। আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, ভাষা শেখা কোনো মুখস্থ বিদ্যার বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সঠিক কৌশলের ওপর নির্ভরশীল। চলুন নতুন একটি ভাষা, বিশেষ করে ইংরেজি শেখার ৮টি কার্যকর ধাপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সুনির্দিষ্ট এবং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ

যেকোনো কাজের সাফল্যের প্রথম ধাপ হলো লক্ষ্য স্থির করা। ‘আমি ইংরেজি শিখতে চাই—এটি একটি অস্পষ্ট লক্ষ্য। এর পরিবর্তে লক্ষ্যটি হওয়া উচিত সুনির্দিষ্ট। যেমন ‘আগামী তিন মাসে আমি ইংরেজিতে একটি সাধারণ প্রেজেন্টেশন দিতে পারব।’ দ্য মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী ছোট ছোট এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ভাষা শেখা শুরু করে, তাদের সফলতার হার অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যগুলো হতে হবে পরিমাপযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত।

ভাষার আবহে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা

একটি শিশু যখন তার মাতৃভাষা শেখে, সে ব্যাকরণ পড়ে শেখে না; বরং সে সারাক্ষণ ওই ভাষার পরিবেশে থাকে। ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রেও এই ‘ইমার্শন’ পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর। আপনার চারপাশের পরিবেশকে যতটা সম্ভব ইংরেজিঘেঁষা করে তুলুন। আপনার ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করে ইংরেজি করে নিন, ইংরেজি পডকাস্ট শুনুন এবং সাবটাইটেলসহ ইংরেজি সিনেমা দেখুন। এতে করে আপনার মস্তিষ্ক অবচেতনভাবেই ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ এবং বাক্যের গঠনবিন্যাস আয়ত্ত করতে শুরু করবে। একে ভাষাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ইনপুট হাইপোথিসিস’।

মুখস্থ নয়, শব্দ শিখুন প্রসঙ্গের সঙ্গে

অভিধান খুলে একের পর এক শব্দ মুখস্থ করা ভাষা শেখার সবচেয়ে নীরস এবং অকার্যকর পদ্ধতি। বিচ্ছিন্নভাবে শব্দ শিখলে তা দ্রুত ভুলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে। এর পরিবর্তে একটি শব্দকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যের মধ্যে রেখে শেখার চেষ্টা করুন। যেমন: ‘Precipitation’ শব্দটি শুধু মুখস্থ না করে এটি দিয়ে একটি বাক্য তৈরি করুন—The forecast predicts heavy precipitation for tomorrow. যখন আপনি প্রসঙ্গের সঙ্গে শব্দ শিখবেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক সহজেই বুঝতে পারবে শব্দটি কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হবে।

প্রথম দিন থেকেই কথা বলার সাহস করুন

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের ইংরেজিভীতি কাজ করে ভুল করার ভয়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ভাষা হচ্ছে যোগাযোগের মাধ্যম, নিখুঁত হওয়ার পরীক্ষা নয়। প্রথম দিন থেকেই ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে কথা বলুন অথবা এমন কোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন, যিনি আপনাকে উৎসাহ দেবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা কথা বলার মাধ্যমে ভাষা শেখার প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। আপনি যত বেশি ভুল করবেন, আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি সংশোধনের সুযোগ পাবে।

ব্যাকরণের বেড়াজাল থেকে মুক্তি

ব্যাকরণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুরুতেই ব্যাকরণের জটিল নিয়মে ডুবে যাওয়া ভাষা শেখার গতিকে মন্থর করে দেয়। কথা বলার সময় যদি আপনি প্রতি মুহূর্তে চিন্তা করেন ‘Past Perfect’ হবে, নাকি ‘past participle’—তবে আপনি কখনোই সাবলীল হতে পারবেন না। প্রথমে বাক্য গঠন এবং ভাব বিনিময়ে গুরুত্ব দিন। ব্যাকরণ নিজে থেকেই অভ্যাসের মাধ্যমে চলে আসবে। অনেকটা সাইকেল চালানোর মতো; আগে ভারসাম্য বজায় রাখা শিখুন, তারপর মেকানিকস বুঝুন।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার

বর্তমান যুগ এআই এবং অ্যাপের যুগ। ডুলিংগো (Duolingo), মেমরাইজ (Memrise) বা বাবেলের (Babbel) মতো অ্যাপগুলো গেমের ছলে ভাষা শেখায়। এ ছাড়া চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করে আপনি আপনার লেখা সংশোধন করে নিতে পারেন। এআই প্রযুক্তির সঙ্গে ইংরেজিতে চ্যাট করে নিজের দক্ষতাকে ঝালিয়ে নিতে পারেন। ইউটিউবে অসংখ্য ফ্রি রিসোর্স রয়েছে, যা আপনাকে উচ্চারণ এবং বাচনভঙ্গি ঠিক করতে সাহায্য করবে।

কনসিস্ট্যান্সি বা নিয়মিত চর্চা

সপ্তাহে এক দিন ৫ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে পড়া অনেক বেশি কার্যকর। ভাষা শেখা একটি পেশি তৈরির মতো; একে নিয়মিত ব্যায়ামের মধ্যে রাখতে হয়। প্রতিদিন অন্তত একটি অনুচ্ছেদ ইংরেজিতে পড়ুন বা একটি ছোট ডায়েরি লিখুন, যেখানে সারা দিনের কাজের বিবরণ থাকবে ইংরেজিতে। এ ছোট পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘ মেয়াদে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

নতুন ভাষায় চিন্তা করার অভ্যাস করুন

অধিকাংশ মানুষ যে ভুলটি করেন তা হলো, প্রথমে বাংলা চিন্তা করেন এবং তারপর সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করার চেষ্টা করেন। এটি কথা বলার গতি কমিয়ে দেয়। এর বদলে সরাসরি ইংরেজিতে চিন্তা করার চেষ্টা করুন। আপনার ঘরের ছোট ছোট জিনিসের নাম মনে মনে ইংরেজিতে নিন। কোনো পরিকল্পনা করার সময় মনে মনে তা ইংরেজিতে সাজান। যখন আপনি ইংরেজিতে চিন্তা করা শুরু করবেন, তখন অনুবাদ করার বাধাটি দূর হয়ে যাবে। আপনার কথা বলা অনেক বেশি প্রাকৃতিক শোনাবে।

সূত্র: দ্য মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ জার্নাল

জাপানে সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ চূড়ান্ত: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

উপদেষ্টা পরিষদে উঠছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ

বাবা বেঁচে থাকলে স্বর্ণপদক দেখে কেঁদে ফেলতেন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

মাহিরের ভান্ডারে বিবিধ রতন

বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডা সংস্কৃতি

চীনের হোহাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তি

ডিআইইউতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে পাঠকবন্ধুর শীতবস্ত্র বিতরণ

এআইইউবিতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদল