এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফেসবুকে এক বিশেষ বার্তায় মন্ত্রী জানান, পরীক্ষার ফলাফলই একজন শিক্ষার্থীর জীবনের চূড়ান্ত পরিচয় নয় এবং এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের সাময়িক মূল্যায়ন।
ফলাফল প্রকাশের পর মন খারাপ করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’
পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় পরিবার ও সমাজের নানামুখী মানসিক চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সহপাঠীদের সাফল্য, প্রতিবেশীর কৌতূহল ও আত্মীয়দের তুলনায় শিক্ষার্থীদের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিকে জীবনের ইতি হিসেবে না দেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঘরকে ‘আদালত নয়, আশ্রয়’ বানানোর তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনের এই কঠিন সময়ে অভিভাবকদের আরও সহনশীল ও সহানুভূতিশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা বা ভর্ৎসনার চাইতে দরকার একটু আদর ও স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’
শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা ও সরকারের আশ্বাস, শিক্ষকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো শিক্ষার্থী কেন পিছিয়ে পড়ল তা খুঁজে বের করা শিক্ষকমণ্ডলীর দায়িত্ব। এ ধরনের ব্যর্থতার দায়ভার কেবল একা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর চাপানো ঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি। অনেক দিন পরে যখন তুমি জীবনে সফল হবে সেখানে দিন আজকের দিকে তাকিয়ে দেখো মনে হবে অযথাই তুমি হতাশ হয়েছিলে। আমি বিশ্বাস করি তোমরা একদিন এই দুর্ভাগা দেশকে নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল শুধরে ভবিষ্যতে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই পুনর্গঠনের যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।