বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সম্ভাবনায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়া শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করাই নয়। নতুন দেশে পৌঁছে যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য দেশ ছাড়ার আগে কিছু বিষয় গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। ব্রিটিশ কাউন্সিল এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, যা তুলে ধরা হলো।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার যাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে অফার লেটার হাতে পাওয়ার আনন্দ অন্য রকম। তবে এরপরই শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ও প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়মগুলোও ভালোভাবে জেনে নিন। ভিসার শর্তাবলি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভ্রমণের সময়সীমা এবং দেশটিতে প্রবেশের নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।
বিদেশে পড়াশোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আর্থিক পরিকল্পনা। শুধু টিউশন ফি নয়, আবাসন, যাতায়াত, খাবার এবং দৈনন্দিন খরচের একটি বাজেট আগে থেকেই তৈরি রাখুন। একই সঙ্গে বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্পর্কেও ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া জরুরি। গ্রেট স্কলারশিপসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় মেধা, বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা এবং বিশেষ অর্জনের ভিত্তিতে বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা দেয়। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, যুক্তরাজ্যে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়ম এবং যে শহরে পড়তে যাবেন, সেখানকার জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নিন। দেশ ছাড়ার আগে এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলে সেখানে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন।
দেশ ছাড়ার আগে প্রি-ডিপারচার ব্রিফিংয়ে অংশ নিন। এতে নতুন দেশে বসবাসের ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিক নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এসব আয়োজন থেকে ভ্রমণ পরিকল্পনা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, বাজেট ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আরও একটি বড় সুবিধা হলো, আগে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শোনা যায়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে যেতে চাওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও পরিচিত হয়।
নতুন দেশে অসুস্থ হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে চিকিৎসা পাবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে জানা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচিত যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস কীভাবে কাজ করে, স্থানীয় জেনারেল প্র্যাকটিশনারের কাছে কীভাবে নিবন্ধন করতে হয় এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কী কী সুযোগ রয়েছে, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া।
যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ছাড়ের সুবিধা। ১৬-২৫ রেলকার্ডের মাধ্যমে ট্রেনভাড়ায় ছাড় পাওয়া যায়। অনেক শহরে বাস ও স্থানীয় গণপরিবহনেও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া UNiDAYS ও Student Beans–এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তিপণ্য, পোশাক, খাবার, বিনোদন, জিম করার সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবায় শিক্ষার্থী ছাড় মেলে।
স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই শেষ কথা নয়। ভিসা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা সুবিধা—প্রতিটি প্রস্তুতিই নতুন দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পথচলার ভিত্তি গড়ে দেয়। তাই দেশ ছাড়ার আগে এসব গুছিয়ে নিলে অজানা পথও অনেকটা সহজ মনে হবে।