হোম > শিক্ষা

কঠিন কোনো কাজের সুযোগ এলে হ্যাঁ বলুন: সুন্দর পিচাই

শিক্ষা ডেস্ক

চেন্নাই থেকে সিলিকন ভ্যালি। সাধারণ এক পরিবার থেকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। সেই পথের অভিজ্ঞতা থেকে জীবনের তিনটি শিক্ষা ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের সামনে তুলে ধরেছেন গুগল ও অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ১৩৫তম সমাবর্তনে দেওয়া বক্তৃতায় সুন্দর পিচাই বলেন, জীবনের প্রতিটি বাঁকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেওয়া যায়।

আশাবাদী হোন

বিশ্ব এখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং তথ্যের চাপ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। প্রতিদিনের খবর দেখে মনে হতে পারে, আমরা হয়তো সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পিচাই মনে করিয়ে দেন, প্রতিটি প্রজন্মই নিজের সময়ের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

চেন্নাইয়ে বেড়ে ওঠার সময় পিচাইয়ের পরিবারকেও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। খরার সময় পানি আসবে কি না, তা নিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। টেলিফোন, টেলিভিশন ও ফ্রিজের মতো প্রযুক্তির জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে বছরের পর বছর। তবে তাঁর বাবা-মা কখনো এসব সীমাবদ্ধতাকে স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। একদিন সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছিলেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম পৌঁছে গাড়িতে যাওয়ার সময় চারপাশের দৃশ্য তাঁর কাছে বাদামি মনে হয়েছিল। হোস্ট মিসেস জেন আর্ল তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমরা এটাকে বাদামি না বলে সোনালি বলতে পছন্দ করি।’ একই দৃশ্য, দুই রকম দেখা। পিচাইয়ের কাছে ঘটনাটি হয়ে ওঠে আশাবাদের শিক্ষা। স্ট্যানফোর্ডে এসে পিএইচডি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। পরে দ্রুত চাকরিতে যোগ দিতে ডক্টরেট প্রোগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি।

কঠিন কাজ বেছে নিন

গুগলে যোগ দেওয়ার কয়েক বছর পর পিচাই একটি ছোট দলের সঙ্গে নতুন ব্রাউজার তৈরির কাজ শুরু করেন। তখন গুগলের অনেকে মনে করতেন, এর জন্য শত শত প্রকৌশলী প্রয়োজন হবে। তাঁর দলে ছিলেন প্রায় ১০ জন।

২০০৮ সালে বাজারে আসে ক্রোম। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এটি ব্যবহার করেন ৮০ লাখ মানুষ। তবে এক বছর পরও বাজার অংশীদারত্ব ছিল প্রায় ২ শতাংশ। মাইক্রোসফটের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী স্টিভ বালমারও ক্রোমকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলেন। পিচাই দলকে হতাশ না হয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। প্রতি ছয় সপ্তাহে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। ধীরে ধীরে সাফল্য আসে। পিচাই বলেন, কঠিন কাজ মেধাবী ও আশাবাদী মানুষকে একত্র করে। তাই কঠিন কোনো কাজের সুযোগ এলে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

যে কাজ আনন্দ দেয়, সেটিই করুন

প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহই পিচাইকে গুগলে নিয়ে যায়। ১৯৯৩ সালে স্ট্যানফোর্ডে এসে প্রথমবার সহজে কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পান তিনি। তাঁর চোখের সামনে তখন ইন্টারনেটের নতুন পৃথিবী তৈরি হচ্ছিল। প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে—এই ভাবনাই তাঁকে আনন্দ দিত। পরে ক্রোমবুক ও অ্যান্ড্রয়েডের মতো প্রকল্পে কাজ করেন। গ্রামীণ ভারতের নারীদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেখে কিংবা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের তাঁর তৈরি পণ্য ব্যবহার করতে দেখে সেই আনন্দ আরও গভীর হয়।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, বাবা-মা বা সমাজ কী চান, শুধু তা ভেবে পথ বেছে নেবেন না। ভাবুন, কোন বিষয় নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে পারেন। সেই কাজের দিকেই এগিয়ে যান।