রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিট মানবিকসহ অন্য শাখার ভর্তি-ইচ্ছুকদের অন্যতম পছন্দের ইউনিট। এ ইউনিটের অধীনে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদের ২৭টি বিভাগ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে। বর্তমানে আসনসংখ্যা ১ হাজার ৮৯৭টি।
ভর্তি পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ৮০টি প্রশ্নের জন্য সময় থাকে এক ঘণ্টা। বাংলা ৩৫, ইংরেজি ৩৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ৩০ নম্বরের। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ১ দশমিক ২৫ নম্বর কাটা হয়। পাস নম্বর ৪০। সাধারণত দুই শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি, আইন এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে এমসিকিউর পর ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়।
একটি আসন পেতে শুরুতেই প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা। কোচিং নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বড়দের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে কোচিংয়ের চেয়ে নিজের পড়াশোনার ধারাবাহিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়তে হবে। একদিন বেশি, পরদিন কম পড়ার বদলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত মনোবল ধরে রাখাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বাংলা প্রস্তুতিতে সাহিত্য, ব্যাকরণ ও ভোকাবুলারিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাহিত্যের জন্য এইচএসসির পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়তে হবে। ব্যাকরণের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই আয়ত্ত করা জরুরি।
ভোকাবুলারির জন্য অভিযাত্রীর এটিএম বই অনুসরণ করা যেতে পারে। সাহিত্য ও ব্যাকরণের সহায়ক বই হিসেবে অভিযাত্রী অথবা কিংবদন্তি পড়া যেতে পারে।
ইংরেজির জন্য মাস্টার বই অনুসরণ করা যেতে পারে। ব্যাকরণ ও ভোকাবুলারির প্রতিটি অধ্যায়ের এমসিকিউ বেশি করে অনুশীলন করতে হবে।
এইচএসসি ইংরেজি প্রথম পত্রের পাঠ্যবইও ভালোভাবে আয়ত্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে Text Hacks বা Text Panacea সহায়ক হতে পারে। ভোকাবুলারি শক্তিশালী করতে Saifurs Vocabulary পড়া যেতে পারে।
সাধারণ জ্ঞানের জন্য মিহির জিকে অথবা জুবায়ের জিকে অনুসরণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও বিশ্বের মানচিত্র সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। পড়ার টেবিলের পাশে মানচিত্র লাগিয়ে নিয়মিত চোখ বুলানোর অভ্যাস করা যেতে পারে।
পরীক্ষার শেষ এক মাসে প্রশ্নব্যাংক থেকে নিয়মিত অনুশীলন করা জরুরি। এতে ‘এ’ ইউনিটের প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। একই সঙ্গে সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতাও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে পানকৌড়ি প্রশ্নব্যাংক অনুসরণ করা যেতে পারে। পরীক্ষার হলে কৌশলী হতে হবে। একাধিক অপশন নিয়ে কনফিউশন থাকলে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যায়। নিশ্চিত প্রশ্নগুলো আগে দাগাতে হবে। পাশাপাশি সময়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ৬৮ থেকে ৭০ নম্বরের মতো একটি শক্তিশালী স্কোরকে লক্ষ্য রেখে ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে হবে।
সবশেষে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম জরুরি। সুস্থ শরীর ও প্রশান্ত মন প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করে। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিশ্রমকে রব কখনো খালি হাতে ফেরান না।
মো. আমিনুর রহমান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ
শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫