বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি যত আগে শুরু করা যায়, ততই ভালো। তবে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে এগিয়ে যাওয়া। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুরু থেকে কিছু কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান এবং বিশ্ববিদ্যালয় নাকি মেডিকেল? কোন পথে এগোতে চান, তা ঠিক করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস এবং বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করুন।
এ সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় পড়া মনে থাকে না বা অন্যদের প্রস্তুতি দেখে নিজের ওপর চাপ অনুভব হতে পারে। তবে নিয়মিত রিভিশন, মডেল টেস্ট এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগ আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত পড়াশোনা, বারবার রিভিশন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান। শুধু নতুন বিষয় পড়লে হবে না, প্রতিদিন আগের পড়াগুলোও রিভিশন দিন। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কোন বিষয়গুলো থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, সেটিও ঝা যায়।
বাংলা: ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। পাশাপাশি সাহিত্য অংশের গুরুত্বপূর্ণ লেখক, কবি, গ্রন্থ ও চরিত্র পড়তে হবে। নিয়মিত এমসিকিউ অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও ভালো হবে।
ইংরেজি: গ্রামারের মৌলিক নিয়মগুলো শক্ত করতে হবে। Vocabulary, synonym, antonym, appropriate preposition, sentence correction ও comprehension নিয়মিত অনুশীলন করা প্রয়োজন।
গ্রুপ বিষয়: গ্রুপের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। নিয়মিত এসব বিষয় পড়া ও রিভিশন দেওয়ার পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করা জরুরি।
সাধারণ জ্ঞান: নিয়মিত সাধারণ জ্ঞান পড়তে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।
এমসিকিউ অনুশীলন: প্রতিদিন নিয়ম করে এমসিকিউ সমাধান করুন।
ভুলের খাতা: ভুল হওয়া প্রশ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদা খাতায় লিখে রাখুন। পরে নিয়মিত সেগুলো দেখুন।
মক টেস্ট: পরীক্ষার মতো পরিবেশে নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন।
১. প্রথমে পুরো প্রশ্নপত্র দ্রুত দেখে সহজ প্রশ্নগুলো চিহ্নিত করুন।
২. যেসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত, সেগুলো আগে দাগান।
৩. একটি প্রশ্নের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করবেন না।
৪. কঠিন প্রশ্ন পরে সমাধানের জন্য রেখে দিন।
৫. নেগেটিভ মার্কিং থাকলে আন্দাজে উত্তর দেওয়ার আগে ঝুঁকি বিবেচনা করুন।
৬. শেষ সময়ে উত্তরপত্র এবং দাগানো উত্তরগুলো ভালোভাবে যাচাই করুন।
প্রতিদিন অল্প অল্প করে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। কোনো বিষয় কঠিন মনে হলে সেটি এড়িয়ে না গিয়ে ধীরে ধীরে আয়ত্ত করুন। প্রতিদিনের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে পরের দিন আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা। পরিশ্রম, ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।