যে কোনো ভাষা শেখার মূল কৌশল হলো স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে ভাষাটিকে আয়ত্ত করা। এর অন্যতম কার্যকর উপায় বই পড়া। বই পড়ে ইংরেজি শেখার কার্যকর কৌশল ও পরামর্শ দিয়েছেন ইংরেজি প্রশিক্ষক ও পাবলিক স্পিকার মোহাম্মদ হীরা সরকার।
ইংরেজি শেখার কথা বললে আমরা সাধারণত গ্রামার, ভোকাবুলারি কিংবা কোচিংয়ের কথা ভাবি। কিন্তু ইংরেজি শেখার সবচেয়ে স্বাভাবিক ও কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো বই পড়া। তবে শুধু ইংরেজি বই হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়লেই ইংরেজি শেখা যায় না। বই পড়তে হবে নির্দিষ্ট কৌশলে।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, নিজের বর্তমান ইংরেজি দক্ষতার তুলনায় খুব কঠিন বই দিয়ে শুরু করা যাবে না। অনেকে প্রথম দিনই শেক্সপিয়ার, বড় উপন্যাস কিংবা কঠিন একাডেমিক বই নিয়ে বসেন। কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই অসংখ্য অপরিচিত শব্দ দেখে হতাশ হয়ে বইটি বন্ধ করে দেন। তাই শুরুতে এমন বই নির্বাচন করতে হবে, যার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শব্দ আপনি বুঝতে পারেন। শিশু-কিশোরদের গল্প, গ্রেডেড রিডার্স, সহজ জীবনী, ছোটগল্প কিংবা সহজ ইংরেজি সংবাদপত্রের নিবন্ধ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
বই পড়ার সময় প্রতিটি অজানা শব্দের অর্থ সঙ্গে সঙ্গে ডিকশনারিতে খুঁজতে যাবেন না। এতে পড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়। প্রথমে বাক্যটির কনটেক্সট বোঝার চেষ্টা করুন। শব্দটির অর্থ অনুমান করুন। এরপরও প্রয়োজন হলে ডিকশনারি ব্যবহার করুন। বিশেষ করে যেসব শব্দ বারবার আসছে, সেগুলো আলাদা করে লিখে রাখুন। শুধু বাংলা অর্থ লেখার পরিবর্তে শব্দটি দিয়ে একটি ইংরেজি বাক্য লিখুন। যেমন, ‘confident’ শব্দটির পাশে শুধু ‘আত্মবিশ্বাসী’ না লিখে লিখতে পারেন, ‘She is confident about her future.’ এতে শব্দটি বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে মনে থাকবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো জোরে জোরে পড়া। মনে মনে পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু অংশ ‘লাউড রিডিং’ করুন। এতে প্রোনানসিয়েশন, ফ্লুয়েন্সি, ইনটোনেশন ও স্পিকিং কনফিডেন্স উন্নত হবে। একটি প্যারাগ্রাফ পড়ে নিজের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করতে পারেন। পরে সেটি শুনে নিজের উচ্চারণ ও কোথায় দ্বিধা হচ্ছে, তা খুঁজে বের করুন।
বই পড়ার সময় বাক্যের ধরন লক্ষ্য করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি শেখার জন্য প্রতিটি বাক্যের ব্যাকরণের নিয়ম মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। বরং লেখক কীভাবে বাক্য তৈরি করেছেন এবং কোন এক্সপ্রেশন কীভাবে ব্যবহার করেছেন, সেদিকে নজর দিন। যেমন, ‘I am looking forward to meeting you’ বাক্যটি পড়লে শুধু অর্থ জানলেই হবে না; ‘look forward to’ কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিও লক্ষ্য করতে হবে। এভাবে বই হয়ে উঠতে পারে আপনার একজন স্বাভাবিক ইংরেজি শিক্ষক।
প্রতিদিন কত পৃষ্ঠা পড়ছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। পরিমাণের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি জরুরি। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট পড়া একদিনে দুই ঘণ্টা পড়ে পরের ১০ দিন বই না পড়ার চেয়ে বেশি কার্যকর। চাইলে প্রতিদিন পাঁচটি নতুন শব্দ, দুটি প্রয়োজনীয় এক্সপ্রেশন এবং একটি ভালো ইংরেজি বাক্য নোটবুকে লিখে রাখতে পারেন।
আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো পড়া, ভাবা, বলা ও লেখা। একটি প্যারাগ্রাফ পড়ার পর বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় ইংরেজিতে সেটি বলার চেষ্টা করুন। এরপর সেই বিষয় নিয়ে দুই-তিনটি বাক্য লিখুন। এতে পড়ার সঙ্গে বলা ও লেখার সংযোগ তৈরি হবে।
সবশেষে বলব, সবকিছু বুঝতে হবে, এমন চাপ নেবেন না। কিছু না বুঝলেও এগিয়ে যান। আবার পড়ুন, শুনুন, বলুন এবং ব্যবহার করুন। আজই একটি সহজ ইংরেজি বই বেছে নিন। প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট পড়ুন। একটি নতুন শব্দ শিখুন, একটি বাক্য বলুন এবং একটি ভাবনা লিখুন। কয়েক মাস পর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন—বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা শুধু আপনার জ্ঞান বাড়ায়নি, আপনার ইংরেজিও বদলে দিয়েছে।