ছোটবেলা থেকে আইন নিয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিল। এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো ফল করার পরও এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ বেছে নিই। কলেজে ভর্তির সময়ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে বিষয় নির্বাচন করেছিলাম। শুরু থেকে ইতিহাস, বাংলা ও ইংরেজিতে ভালো করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি বাংলার ব্যাকরণ, বিরচন এবং ইংরেজির Synonym, Antonym ও Vocabulary নিয়মিত আয়ত্ত করেছি। এই আগাম প্রস্তুতি ভর্তি পরীক্ষায় আমাকে এগিয়ে রেখেছে।
ভর্তি প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বড় সিলেবাস ও অল্প সময়। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বাসার কাছের উদ্ভাসের একটি শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কোর্সে ভর্তি হই। নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতাম। পরীক্ষায় ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতাম। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও বেছে নিয়েছিলাম। এতে অল্প সময়েই প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
আমার সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও ধারাবাহিকতা। ‘আজকের পড়া কালকের জন্য নয়’ ছিল আমার প্রধান নীতি। নিয়মিত পরীক্ষা দিয়ে নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করা এবং দ্রুত তা সংশোধনের চেষ্টা করেছি। এই অভ্যাসই ভালো ফলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলা: কলেজের শুরু থেকে মূল বইয়ের প্রতিটি লাইন, লেখক পরিচিতি ও পাঠ পরিচিতি ভালোভাবে পড়তে হবে। এইচএসসির ব্যাকরণ অংশও পরিষ্কার রাখতে হবে। বিরচনের মতো মুখস্থনির্ভর বিষয় নিয়মিত চর্চা করলে ভর্তি পরীক্ষার আগে চাপ কমে।
ইংরেজি: বোর্ড বইয়ের প্যাসেজ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। গ্রামারের ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি Synonym, Antonym, Idiom, Phrase ও Vocabulary আগে থেকেই শিখতে হবে। নিয়মিত Freehand Writing-এর চর্চাও জরুরি।
গণিত: মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় গণিতের চাপ তুলনামূলক কম হলেও মৌলিক গণিত ও আইকিউয়ের জন্য অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির গণিতের ভিত্তি পরিষ্কার রাখা উচিত।
সাধারণ জ্ঞান: এ বিষয়ে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই নিয়মিত রিভিশন দিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে বারবার আসা বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দেওয়া ভালো।
আমার নির্দিষ্ট কোনো রুটিন ছিল না। তবে প্রতিদিন বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান পড়ার চেষ্টা করতাম। একঘেয়েমি এড়াতে বিষয় পরিবর্তন করে পড়তাম। কোচিংয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়মিত দিতাম। দিনের পড়া দিনেই শেষ করতাম।
পড়ার সময় কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। বই বন্ধ করে নিজের মনে পড়া বিষয়গুলো মনে করার চেষ্টা করতে হবে। মডেল টেস্টে ভুল হওয়া প্রশ্ন আলাদা করে অনুশীলন করতে হবে। সপ্তাহে একদিন আগের পড়া ঝালিয়ে নেওয়া যেতে পারে। প্রশ্নের ধরন বুঝে পরিকল্পিতভাবে পড়লে সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্ভব।
পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। হলে প্রশ্ন পেয়ে ঘাবড়ে না গিয়ে পরিচিত ও সহজ প্রশ্নের উত্তর আগে দিতে হবে। কঠিন প্রশ্নে বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না। ওএমআর শিট পূরণে সতর্ক থাকতে হবে। নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে নিশ্চিত না হয়ে অনুমাননির্ভর উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।
গ্রন্থনা: মালিহা মেহনাজ
এম এম নাফিউজ্জামান, শিক্ষার্থী, কলা ও আইন অনুষদ, (মেধাতালিকা (দ্বিতীয়), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়