সিজিপিএ ৩.৯০ পেয়ে বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হয়েও সেশনজটের কারণে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় স্বর্ণপদকের জন্য প্রণীত তালিকায় নাম ওঠেনি বলে অভিযোগ তার। এ অবস্থায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রতিকার চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ইউজিসির প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। আবদুল্লাহ আল মামুন ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হন। তবে সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তার ফলাফল ২০২৬ সালে এপ্রিলে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি স্বর্ণপদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।
আবেদনে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অনার্স পরীক্ষায় ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে তিনি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তবে ফার্মেসি বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তার শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে শেষ হয় এবং পরে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ফলাফল নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত হওয়ায় সেসব বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। কিন্তু ফার্মেসি বিভাগের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তিনি একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভাগীয় সেশনজট বা প্রশাসনিক জটিলতার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়। এসব কারণে একজন শিক্ষার্থী যেন তাঁর মেধা ও ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিকার চান তিনি।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার ও ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
তবে শিক্ষার্থীর আবেদনের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার। তিনি বলেন, ‘এখানে সেশনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট বছরে সালভিত্তিক প্রথম হয়েছেন, তাদেরই নির্বাচিত করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল মামুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হলেও তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। এ কারণে তিনি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।’
এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাসুদ রানার সঙ্গে দুই দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একটি চিঠি পেয়েছি। তবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র দুই দিন হলো। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।’