ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে বাপ্পী ও আলোচিত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে শুটার ফয়সালসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—প্রধান আসামি ১. ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) ও তাঁর সহযোগী, ২. আলমগীর হোসেন (২৬), ৩. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), ৪. ফিলিপ স্নাল (৩২), ৫. মুক্তি মাহমুদ (৫১), ৬. জেসমিন আক্তার (৪২), ৭. হুমায়ুন কবির (৭০), ৮. হাসি বেগম (৬০), ৯. সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ১০. ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), ১১. মারিয়া আক্তার লিমা (২১), ১২. কবির (৩৩), ১৩. নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ১৪. সিবিয়ন দিও (৩২), ১৫. সঞ্জয় চিসিম (২৩), ১৬. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও ১৭. ফয়সাল (২৫)।
আসামিদের মধ্যে হুমায়ুন কবির ও হাসি বেগম ফয়সালের বাবা–মা। তাঁরাসহ মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফয়সাল, তাঁর বোন জেসমিন ও দুলাভাই মুক্তি মাহমুদ, আলমগীর, বাপ্পি ও ফিলিপ—এই ছয় আসামি এখনো পলাতক।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বিজয়নগর বক্স-কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেল আরোহীরা। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পল্টন থানার হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি।
পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন, আর পেছনে বসে থাকা ‘শুটার’ ফয়সাল হাদিকে গুলি করেন।
তদন্তে হাদি হত্যাকাণ্ডে যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর ‘সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে’ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ‘শুটার’ ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীরের পলায়নে ‘সার্বিক সহায়তাকারী’ হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
হাদি হত্যার মোটিভ তুলে ধরে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘ফয়সাল নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভিক্টিমের পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও এদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় ন্যক্কারজনক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারা সূচনা করেন হাদি। তদন্তে জানা যায়, হাদি বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনামূলক জোরালো বক্তব্য রেখে আসছিলেন। এর ফলে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়।’
সার্বিক তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে গ্রেপ্তার আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসসমূহের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিবিপ্রধান।