মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এক নারীকে (২৬) ইউনিয়ন পরিষদে এনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী শুক্রবার রাতে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবু (৩৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় এ অভিযোগ করেন।
বাবু লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে থাকেন এবং পরিষদের বিভিন্ন কাজ করেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বাবু ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁকে নানা সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দিলে একপর্যায়ে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবু একদিন ওই নারীকে ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার কক্ষে ডেকে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন।
অভিযোগপত্রে আরও জানা যায়, বাবুর কথামতো আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন ভুক্তভোগী। ডিভোর্সের পরও কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হলে বাবুকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। বাবু একদিন ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ফরিদপুরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পেটের বাচ্চা নষ্ট করেন।
পরে ওই নারী বিয়ের চাপ দিলে বাবু তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। এতে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাবুর বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট জানিয়ে বাবু মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকি। চেয়ারম্যান এলাকায় উন্নয়ন করছেন। সে কাজ আমি দেখভাল করছি। আমার বিরোধী পক্ষ ওই মেয়েকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করিয়েছেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন ইমাম সোনা মিয়া বলেন, ‘ছেলেটা দশ বছর যাবৎ বাইক নিয়ে পদ্মাপাড় থেকে পরিষদ পর্যন্ত আমাকে আনা-নেওয়া করে। আমার জানামতে ছেলেটা খারাপ না। তবে দু-একদিন হলো এ বিষয়ে শুনেছি।’
হরিরামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’