হোম > সারা দেশ > ঢাকা

জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বসতঘর, যুবকের মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বোমা বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বসত ঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুর জেলার জাজিরায় বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেছে একটি বসতঘর। এ সময় সোহান ব্যাপারী (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীর কান্দী গ্রামে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান ব্যাপারী ওই ইউনিয়নের চেরাগ আলী ব্যাপারীর কান্দী গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে আসছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল জলিল মাতবর।

গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে বিলাসপুর এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। মামলায় আব্দুল জলিল মাতবর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর দিকে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে গেছেন।

বর্তমানে কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক তাইজুল ইসলাম ছৈয়াল এবং জলিল মাতবরের সমর্থক নাসির ব্যাপারীর লোকজন এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে মুলাই ব্যাপারীর কান্দী গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটল। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের অদূরে একটি ফসলের মাঠ থেকে তাইজুল ইসলাম ছৈয়ালের পক্ষের সমর্থক বলে পরিচিত সোহান ব্যাপারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত সোহান ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা মাফিয়া বেগম, স্ত্রী পিংকি বেগম ও বোন মাজেদা সোহান ব্যাপারীর দুই শিশুকে বুকে জড়িয়ে আহাজারি করছেন। বৃদ্ধ বাবা দেলোয়ার ব্যাপারী নির্বাক হয়ে বসে আছেন।

সোহানের বোন মাজেদা বলেন, ‘আমার ভাইকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। পুলিশের ভয়ে সে বাড়িতে থাকতে পারত না। নাসির ব্যাপারীর লোকজন আমার ভাইকে বোমা মেরে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

স্ত্রী পিংকি বেগম বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান যারা এতিম করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। এ ছাড়া আমার বলার কিছু নাই।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এলাকাটিতে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ভোররাত ৪টার দিকে টহল পুলিশ বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে কাছের একটি ফসলের মাঠ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

ওসি আরও বলেন, ‘ঘরের ভেতর থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল নাকি মজুত রাখা হয়েছিল—তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) বুধাইরহাট এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরদিন রোববার সকালে বুধাইরহাট বাজারে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বাজারের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দুটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জাবেদ শেখ নামে নাসির ব্যাপারীর এক সমর্থকের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মোসাব্বির হত্যা: খুনিদের ছবি স্পষ্ট পরিচয় অজানা

যশোর সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ

ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত, আরোহী আহত

বাপ্পী নামক কলাগাছকে সামনে এনে হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনাকে আড়াল করা হচ্ছে: জাবের

হাদি হত্যাসহ সারা দেশে টার্গেট কিলিংয়ের প্রতিবাদে জবিতে মানববন্ধন

রাজধানীতে গ্যাসের অতি স্বল্পচাপের যে ব্যাখ্যা দিল তিতাস

মির্জাপুরে ডাম্প ট্রাকচাপায় অজ্ঞাতনামা নারীর মৃত্যু

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: মূল নকশার বাইরে চারটি র‍্যাম্প নির্মাণের ভাবনা

মোসাব্বির হত্যা: তদন্তে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যে নজর

ফরিদপুরে জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ