নিজের অবৈধ আয়কে বৈধ দেখাতে ‘মায়ের দান’ হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুদক থেকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদক সূত্র জানায়, মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ২০০১-২০০২ করবর্ষ থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মায়ের কাছ থেকে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা দান হিসেবে পেয়েছেন বলে আয়কর নথিতে উল্লেখ করেন। তবে তদন্তে দেখা গেছে, তাঁর মায়ের কোনো বৈধ আয়ের উৎস কিংবা আয়কর নথি নেই।
এ ছাড়া দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৯১ লাখ ১৩ হাজার ৮১ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেন তিনি। একই সঙ্গে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা অবৈধ আয়কে বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল। অন্যের টিআইএন নম্বর ব্যবহার করে মায়ের নামে ভুয়া আয়কর নথি তৈরি করে ভুয়া সম্পদ প্রদর্শন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা নিজের আয়কর নথিতে ‘মায়ের দান’ হিসেবে গ্রহণ দেখানো হয়।
একইভাবে নিজের অবৈধভাবে উপার্জিত আরও ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা স্ত্রীকে দান দিয়েছেন দেখিয়ে ওই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আসামি মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্ত্রী ডা. জোবাইদা শাহানূর রশীদের নামে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৫৭ টাকা। সেই হিসাবে তাঁর ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক।