রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে পালানো তিনজনকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় নাম না জানা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সময়কার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই রাতে মুছাব্বিরকে গুলি করে মাথায় মাফলার পরা তিন ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে অন্ধকারের কারণে তাঁদের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার রাত ৮টার কিছুক্ষণ পর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।
তাঁর পরিচিত মো. শাহিন জানান, মুছাব্বির দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।