চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) নোয়াখালীর কবিরহাট থানাধীন নবগ্রাম এলাকা, চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী ও বায়েজিদ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭ ও র্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. পারভেজ (৩৫), মো. বেলাল (৩০) ও সাইদুল ইসলাম (২৬)।
র্যাব-৭-এর মুখপাত্র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন আজ শনিবার (২৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এদের মধ্যে পারভেজকে নোয়াখালীর কবিরহাট থেকে, বেলালকে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানাধীন উদালিয়া এলাকা এবং সাইদুল ইসলামকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাবের হাতে ১৩ জন এবং জেলা পুলিশের হাতে ৭ জনসহ মোট ২০ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।
র্যাব জানায়, এর আগে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ২৩ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মামলার এজাহারনামীয় চার আসামি হলেন—আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর (২৮), মো. জহির ওরফে জাহিদ হোসেন (৩৯), ইউনুছ আলী হাওলাদার (৬২), মিজানুর রহমান সোহান (১৯) এবং মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. মিজান (৫৩), মো. মামুন (৩৮), মো. শাহজাহান (৫৩), শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিকুল মাস্টার (৫১), মো. সেকান্দার মিয়া ওরফে ইয়াকুব (৪৩) ও মো. সেলিম (৫০)।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালানোর সময় র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে র্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিএডি আব্দুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত ২২ জানুয়ারি র্যাব-৭ চট্টগ্রাম বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনকে এজাহারভুক্ত এবং ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করে।