ফিশিং লিংকের মাধ্যমে সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রংপুরে গত বুধবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের শাহীদ আল ইমরান সৌরভ (৩৬) এবং রংপুরের কোতোয়ালীর ইসলামপুরের মো. সাগর হোসেন (২৮)।
সিআইডি জানায়, গত ২ জুন ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার আপডেট-সংক্রান্ত একটি মেসেজ আসে। মেসেজটি দেখার পর তাঁর মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হতে শুরু করে এবং ডিসপ্লে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তিনি ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। পরে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে চালু হলে বিভিন্ন মেসেজের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, তাঁর হিসাব থেকে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ জুন পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়। পরে মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বুধবার রাতে রংপুরের গোমস্তপাড়া এলাকা থেকে রাত ১টা ১৫ মিনিটে শাহীদ আল ইমরান সৌরভকে এবং হনুমানতলা, চিকলী এলাকা থেকে রাত ২টা ৩৫ মিনিটে মো. সাগর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শাহীদ আল ইমরানের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেকবই, একটি ভিসা প্লাটিনাম কার্ড, একটি ভিসা ডেবিট কার্ড, একটি সিম্ফনি বাটন ফোন ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাগর হোসেন জানিয়েছেন, ফেসবুক ও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ তোলার পর অনলাইনে দেশের বাইরে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে কমিশন পেত চক্রের সদস্যরা।
সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার দুজনের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্তও চলমান রয়েছে।