মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের শস্য খাতে। যুদ্ধের ফলে সার ও জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ বছর মার্কিন কৃষকেরা ভুট্টা চাষ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এক সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে।
ইউএসডিএ-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যেখানে ৪ কোটি হেক্টর (৯ কোটি ৮৮ লাখ একর) জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল, এ বছর তা কমে ৩ কোটি ৮৫ লাখ হেক্টরে (৯ কোটি ৫৩ লাখ একর) দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ভুট্টা ও গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
ভুট্টা ও গম চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেনভিত্তিক (ইউরিয়া জাতীয়) সারের প্রয়োজন হয়। এই সারের একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুটটি এখন কার্যত বন্ধ। ফলে বাজারে সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যা চাষের ট্রাক্টর চালানো থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন—সবক্ষেত্রেই খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সারের চড়া দামই কৃষকদের একমাত্র সমস্যা নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে শস্যের দাম তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এর ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং-নীতি বা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে মার্কিন শস্যের চাহিদা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে মার্কিন কৃষিখাত এখন এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার উৎপাদন কমে গেলে এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব খাদ্য বাজারেও। ভুট্টার সরবরাহ কমলে পশুখাদ্য থেকে শুরু করে ইথানল ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার এই ঝুঁকি ততটাই প্রকট হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।