সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত খুচরা পেট্রল পাম্প থেকে শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীদের পেট্রল এবং ডিজেল কেনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নতুন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই বড় ব্যবহারকারীদের এখন থেকে সরাসরি ‘বাল্ক’ বা পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাটির মূল কারণ খুচরা ও পাইকারি বাজারের জ্বালানি তেলের দামের বিশাল ব্যবধান এবং এর জেরে পাম্পগুলোতে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক বাড়তি চাহিদা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষকে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো খুচরা বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে মোবাইল টাওয়ার, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যারা সরাসরি পাইকারি বা বাল্ক হিসেবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনে, তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান প্রকৃত দর বা বাজার দর বহাল রাখা হয়।
এর ফলে খুচরা ও পাইকারি বাজারের দামে একটি বৈষম্যমূলক ও বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খুচরা পাম্পে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম যেখানে ৯৫ দশমিক ২০ রুপি, সেখানে পাইকারি বা বাল্ক ক্রেতাদের জন্য এই দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি।
এই বিপুল দামের পার্থক্যের কারণে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা পাইকারি বাজার এড়িয়ে সাধারণ খুচরা পেট্রল পাম্প থেকে তেল কেনা শুরু করে। এতে খুচরা বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি দেখা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল (১১ জুন) দেশটির জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় ‘মোটর স্পিরিট ও হাই স্পিড ডিজেল (খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সরবরাহ সাময়িক নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬’ জারি করে।
আদেশে বলা হয়েছে, সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের সাধারণ খুচরা পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের নিজস্ব উপভোক্তা পাম্পের মাধ্যমে বাল্ক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ খুচরা পাম্প থেকে কেবল যানবাহনের নিজস্ব ফুয়েল ট্যাংক অথবা দেশের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (পিইএসও) অনুমোদিত বিশেষ পাত্রে সর্বোচ্চ ২০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল কেনা যাবে। খুচরা পাম্প থেকে কেনা ডিজেল কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন, শিপিং লজিস্টিকস এবং তেলের প্রাপ্যতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এ অবস্থায় বড় বাণিজ্যিক ক্রেতারা খুচরা পাম্পে ভিড় করলে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ জ্বালানি অন্য খাতে চলে যাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
নতুন এই নির্দেশনা অমান্য করলে তা ‘অপরিহার্য পণ্য আইন’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে, জ্বালানি মজুতকরণ, কালোবাজারি, অননুমোদিত কেনাকাটা ও জ্বালানির অবৈধ পাচার রোধে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার চাইলে যেকোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী বা এলাকাকে এই কঠোর নিয়মের আওতার বাইরে রাখার সুযোগ রেখেছে।