হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার, ১২০-এ পৌঁছানোর শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকট নিরসন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ দশমিক ৪৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১৪ ডলার বা ২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলার হয়েছে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রশাসনের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠায় ইরান। তবে গত শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান।

পরবর্তীতে গতকাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম আক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন চলতি সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসবেন।

নয়াদিল্লি-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ওয়েলথস্ট্রিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে দ্রুত কোনো সমাধান আসার আশা কমে গেছে, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিন্তু থেমে নেই।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে না পৌঁছানো পর্যন্ত বাজারে এই ধরনের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হলে বা পণ্য পরিবহন সহজ হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে তেলের বাজারে উত্তেজনার আবহ বাড়িয়ে দিয়েছে আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতও। গত শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে।

তবে যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নজরদারি সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে—যা গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

লোহিত সাগরের পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি আরব তাদের রপ্তানি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা বন্দরে নিয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের চলাচল পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে এবং চলতি মাসে সরবরাহ দৈনিক ৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও গত সপ্তাহে আমেরিকান ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বাজারে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এএনজেড-এর বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ডিজেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে—বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এটি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।