হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ল, চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠানোর খবর এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আজ শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি ডিজেল রিজার্ভ ব্যবহার করার জন্য ওয়াশিংটনের চাপের খবরও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এর মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বেড়ে ১০২ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে একটি তৃতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং প্রায় ১০,০০০ অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অক্টোবরের শুরুতেই পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন।

তেলের মূল্যের ওপর চাপ কমাতে ইইউ-কে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) ব্যারেল ডিজেল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ০০:২২ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৯ সেন্ট বা ০ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, মার্কিন ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন ও চীনের রপ্তানি বন্ধের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ ডলারের বেশি এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ ডলারের বেশি একলাফে বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বরে ১৪ শতাংশ দরবৃদ্ধির পর চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে গড়ে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ পতন দেখা গেলেও সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এখনো অস্থির।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তৃতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় হামলা চালানো হতে পারে বলে জল্পনা চলছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমাকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা (ইরান) হয় অত্যন্ত ন্যায্য একটি চুক্তিতে সই করবে, না হয় তাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার চীন সরকার জাতীয় এক সপ্তাহের ছুটি বা ‘গোল্ডেন উইক’ শুরু করার সময় দেশীয় বড় শোধনাগারগুলোকে হংকং ও ম্যাকাও ব্যতীত অন্য কোথাও তেল ও ডিজেল রপ্তানির নতুন কোটা জারি করেনি।

চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বেইজিং জ্বালানি রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে জুলাই মাসে তা কিছুটা শিথিল করা হলেও বর্তমানে প্রতি মাস ভিত্তিতে ডিজেল, পেট্রল ও জেট ফুয়েল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ৭ অক্টোবর উইকেন্ড শেষ হওয়ার পর চীন পুনরায় রপ্তানি অনুমোদন দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর ওপর জরুরি রিজার্ভ ব্যবহারের জোর চাপ সৃষ্টি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) ব্যারেল জরুরি ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে মার্কিন ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইইউভুক্ত দেশগুলোর কাছে প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টন জরুরি অপরিশোধিত তেল ও ফুয়েল মজুত রয়েছে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানো এবং চীনের সাময়িক রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।’

গবেষণা সংস্থা এক্স-অ্যানালিস্টসের প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সহদেব জানান, ইউরোপকে তাদের তেলের জরুরি মজুত উন্মুক্ত করার জন্য মার্কিন চাপ তৈরি করার ঘটনাটি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারীদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এবং চীনের রপ্তানি নীতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকবে।