কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা বাড়তে থাকবে বলে জানিয়েছেন আবুধাবির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডনক গ্যাস’-এর প্রধান নির্বাহী ফাতেমা আল নুয়াইমি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম প্রদর্শনী ও সম্মেলন (আদিপেক) অনুষ্ঠানে ফাতেমা আল নুয়াইমি বলেন, গ্যাসের ব্যবহার ও চাহিদা দীর্ঘ মেয়াদে বাড়তেই থাকবে। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল জ্বালানি সরবরাহ ভবিষ্যতে গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের মাসিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বন্ধ রয়েছে। এতে এশিয়ার কয়েকটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘শেল’-এর সর্বশেষ এলএনজি পূর্বাভাস প্রতিবেদনে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনার ক্ষতির পর চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও বেলজিয়ামের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মাজর’ ঘোষণা করেছে কাতারএনার্জি।
তবে শেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে বছরে প্রায় ৭০ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে।
ফাতেমা আল নুয়াইমি বলেন, এআই প্রযুক্তির জন্য নতুন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এ খাতে স্পেসএক্সের জন্যই প্রায় ৯৫ লাখ টন এলএনজির প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আবুধাবি এআই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ওপেনএআই, ওরাকল ও এনভিডিয়ার সহযোগিতায় আবুধাবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জি৪২ এক গিগাওয়াট সক্ষমতার ‘স্টারগেট ইউএই’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ চুক্তির ক্ষেত্রে নমনীয়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যাডনক গ্যাসের প্রধান নির্বাহী। আজ প্রতিষ্ঠানটি ফ্রান্সের টোটালএনার্জিসের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১৬ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের চুক্তি করেছে।
বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন এলএনজি বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মও সম্প্রসারণ করছে অ্যাডনক। প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করে ও বিশ্বের ২০টির বেশি দেশে গ্যাস সরবরাহ করে।