চীনের জনপ্রিয় কফি চেইন লাকিন কফিতে (Luckin Coffee) প্রায় ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। গত সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটির অংশীদারত্ব কেনার এই বিনিয়োগ শুধু কফি ব্যবসায় অংশ নেওয়াই নয়, বরং এর মাধ্যমে চীনের ভোক্তা অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনায় দীর্ঘমেয়াদি বাজি ধরেছে আবুধাবি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়, ৩৬ হাজারের বেশি স্টোর নিয়ে লাকিন বর্তমানে চীনের অন্যতম বড় কফি চেইন। তুলনামূলক সস্তা পানীয়, দ্রুত সম্প্রসারণ এবং অ্যাপভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে অল্প সময়েই বিশাল বাজার তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
লাকিন কফিতে বিনিয়োগটি করেছে আবুধাবির ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল মুবারদালা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। গত এক দশকে চীনে ২০০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চীনের সঙ্গে আবুধাবির বিনিয়োগ সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল এবং চীনের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জের সঙ্গে মিলে ১০ বিলিয়ন ডলারের ইউএই-চীন গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠন করে মুবারদালা।
এরপর চীনে শতাধিক বিনিয়োগ করেছে তহবিলটি। ভোক্তা পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে এসব বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে ফাস্ট-ফ্যাশন জায়ান্ট শেইন, চীনে ইউসিবির ওষুধ ব্যবসা এবং দেশটির শত শত শপিং মল পরিচালনাকারী নিউল্যান্ড কমার্শিয়াল ম্যানেজমেন্ট।
২০২৩ সালে বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়ও খোলে মুবারদালা। এর ফলে চীনা কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ তৈরি হয়।
ইনসিয়াড আবুধাবির অধ্যাপক কিয়ারা স্পিনা বলেন, চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হলেও ভোগব্যয় ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতের বিকাশ বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোও তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে নিজেদের বিনিয়োগ বহুমুখী করতে চাইছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত লাকিন কফি ২০১৯ সালে হিসাব জালিয়াতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নাসডাক থেকে তালিকাচ্যুত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়িয়ে চীনের অন্যতম শীর্ষ কফি ব্র্যান্ডে পরিণত হয় প্রতিষ্ঠানটি।
তরুণ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভোক্তাদের লক্ষ্য করে সস্তা পানীয়, নতুন নতুন পণ্য এবং অ্যাপভিত্তিক অর্ডার ব্যবস্থাকে ব্যবসার মূল শক্তি করেছে লাকিন। মুবারদালার প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ কৌশলের সঙ্গে এই মডেলের সামঞ্জস্যই বিনিয়োগের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় লাকিনের কার্যক্রম রয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কেও প্রবেশ করেছে তারা। কোম্পানিটির বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার সেন্টুরিয়াম ক্যাপিটালের অংশীদার মাইকেল চেন বলেছেন, মুবারদালার সঙ্গে সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিদেশে লাকিনের সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।