হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। আজ বুধবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাহরাইন, কুয়েত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হয় প্রতিহত করা হয়েছে, নয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভেঙে পড়ে বা ব্যর্থ হয়। বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে সামুদ্রিক পরিবহন কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বাজারে প্রভাব ফেলে।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানালেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, কয়েক দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মার্চের মাঝামাঝি থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করে আসছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।

ইরান চাইছে তেল বিক্রির আয় ব্যবহারের সুযোগ, অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে ছাড়, বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধে রাজি হতে হবে। এর বিনিময়েই কেবল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেলসমৃদ্ধ দেশ। ফলে দেশটির তেল রপ্তানি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করছে।

সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে গাজা, লেবানন, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মালি, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্রুত কার্যকর না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি যেভাবে হরমুজের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় আরও কমল তেলের দাম, চাঙা বিশ্ববাজার

ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করল জাপান, লোকসানের মুখে চাষিরা

ইরানের পাল্টা হামলার পর বেড়েছে তেলের দাম

পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি, দাম বেঁধে দিল ভারত সরকার

ভারতে ৩ কোটি ব্যারেল তেল রাখবে আরব আমিরাত, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে ৫ বিলিয়ন ডলার

ট্রাম্পের সফরে ২০০ উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি চীনের, তবু কেন বোয়িংয়ের শেয়ারে দরপতন

ভারতে এক ধাক্কায় ৯% বাড়ল সোনার আমদানি শুল্ক, অর্ধেক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদির কনভয়