হোম > অর্থনীতি > শেয়ারবাজার

ডিবিএর আলোচনা: দুই মাসে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাবে কমিশন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে চায় নবগঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনায় যোগ দিয়ে নিয়ন্ত্রক এই সংস্থার চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বীকার করেছেন, বাজার উন্নয়নে গত দুই মাসে কমিশনের রোডম্যাপের অনেকটা বাস্তবায়িত হলেও সেগুলো বিনিয়োগে আস্থার ঘাটতি এখনো দূর করতে পারেনি। বিষয়টি কমিশনের নজরে রয়েছে জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দু-তিন মাসে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, যার মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট অনেকটা দূর হবে।

গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এই আলোচনার আয়োজন করে। এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ডিবিএর সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি আল মারুফ খান, ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম, ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মাসুদ খান বলেন, বাজারের সূচক বা লেনদেন বাড়ানো নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ নয়। একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও টেকসই পুঁজিবাজার নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়াই বিএসইসির মূল দায়িত্ব। বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের ‘পেইন পয়েন্ট’ ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়েছে। এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশ সূচক স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্তে ছিল, তা থেকে সরে এসে আগামী নভেম্বর থেকে আবার তা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত জিডিআর নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান করা হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, শুধু জরিমানা করে সিসিএ (কাস্টমার ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি মোকাবিলা করা কঠিন। তাই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর তদারকিতে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা ও নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ইন্সপেকশন’ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাজারের সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক করা হচ্ছে উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, খুব দ্রুতই বিএসইসি ও ডিএসই এআইভিত্তিক সার্ভিল্যান্সে যাবে। বন্ড মার্কেটেও আছে নজর। এরই মধ্যে এর লেনদেনের ফি কমানো হয়েছে। যার কারণে ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি সোশ্যাল বন্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বন্ডটি ডিএসইর মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। আগামী এক বছরে ডিএসইর মূল বোর্ডে আরও অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে বলে আশা করেন তিনি।

আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন বিধিতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ, জমি, যন্ত্রপাতি, পাওনা, দায়সহ আর্থিক বিবরণীর বাস্তবতা যাচাই করা হবে। ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশনের কাজও প্রায় শেষ হয়েছে, যার বাস্তবায়ন শুরু হলে কোনো কোম্পানি আইপিও প্রক্রিয়ায় না গিয়েও নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার বাজারে ছেড়ে দু-তিন মাসে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এভাবে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে বলে আশা করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি ক্লিয়ারিং কোম্পানি (সিসিবিএল) কার্যকর করতে আগামী এক মাসের মধ্যে এর বোর্ড পুনর্গঠন করার কথাও জানান মাসুদ খান। স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+ ১ নিষ্পত্তি চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টি+ ১ চালুর চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির বড় বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি। নতুন ইস্যুয়ারদের উৎসাহিত করতে ডিএসই এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদনকারীরা নির্ধারিত ফিতে আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন।