এন্টারপ্রাইজ-বেজড ট্রেনিং (ইবিটি) শেষে ১৩ হাজার ৮৯৫ জন নারীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে। প্রশিক্ষণে দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছিলেন ২৬ হাজার ৫৭৪ জন। সে হিসাবে কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৭টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ২৪৮ জন নারী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ২৪ জন।
বিডব্লিউসিসিআই বলেছে, কর্মসংস্থান বলতে শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রাপ্তিকে বোঝায় না। প্রশিক্ষণে নারীর আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, বাড়িভিত্তিক ব্যবসা এবং আয়মূলক সেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন নারী অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন, স্থানীয় বাজারে পণ্য বা সেবা দিতে পারেন কিংবা অন্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। এ কারণে বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—দক্ষতা থেকে আয় এবং দক্ষতা থেকে উদ্যোক্তা। চাকরির পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন জেলার শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের সংযোগ স্থাপন করছে। অ্যাপ্রেনটিসশিপ ও চাকরির সুযোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও আর্থিক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীরা শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট। এসব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন নারী তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করতে পারেন এবং সময়ের সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন।
এ পর্যন্ত দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪৮ জন এবং দক্ষ হয়েছেন ২৬ হাজার ৫৭৪ জন। কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী নারী এবং ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
প্রশিক্ষণের আওতায় আসা ৪৬ হাজার ২৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর সবাই নারী। পরবর্তী পর্যায়ে দক্ষ নারীর চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নারী উদ্যোক্তাদের বাজার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা এবং কর্মসংস্থানের তথ্য যাচাই ও নিয়মিত অনুসরণ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউসিসিআই।
বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, ‘নারীর দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার সংযোগ, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গ্রাম ও শহরের নারী উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে পারেন। অ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের পথও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশা করি।’