এক্সিম ব্যাংকের পর এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এর আগে, গত ৩১ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরিয়ে নেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্য ব্যাংকগুলো থেকেও পর্যায়ক্রমে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে। তবে প্রশাসক প্রত্যাহারের পরও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে ধীরে ধীরে ব্যাংকটি একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংকমালিকদের সংগঠন বিএবির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চার ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের দখলে। পরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তৈরি হওয়া বিপর্যয় সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার এই পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একত্র করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। অন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমানো টাকার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।