দেশের হিমাগারগুলোতে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতি কেজি আলুতে ৯ টাকা ভর্তুকির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন নেতারা।
শনিবার দুপুরে ঢাকা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন নেতারা। এসময় এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসতিয়াক আহমেদ, পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ, ময়নাকুটি কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর মোহাম্মদ ও টিএমএসএসের প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল মাসে ৪০০ হিমাগারে প্রায় ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষিত হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ২০ টন আলু বিক্রি না হলে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতি হবে।
সংবাদ সম্মলেন কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হিমাগারে থাকা আলুর ওপর আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকারের কাছে প্রতি কেজিতে ৯ টাকা ভর্তুকি প্রদান এবং হিমাগার শিল্পকে রক্ষায় ৪ শতাংশ সরল সুদে ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানোনো হয়।
আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, আলুর ব্যবহার বাড়াতে ত্রাণকার্য, কাবিখা, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং ওএমএসে আলু বিতরণে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, এতিমখানা, জেলখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলে আলু খাওয়া বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া সময় মতো বাজারজাতের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসকদের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট ডিলারদের হিমাগার থেকে সরবরাহ নিয়ে আলু বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ, সারা দেশে টিসিবির আওতাভুক্ত সব ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওএমএসের মাধ্যমে আলু বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আলু রপ্তানি বৃদ্ধিতে ক্রেতা দেশের চাহিদা অনুযায়ী ভালো জাতের বীজ আমদানি ও বীজ উন্নয়ন এবং আলুর মাটিজনিত রোগ দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ, রপ্তানি বাড়াতে বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে বাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আলু রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশ ধার্য করার দাবিও জানানো হয়।
এছাড়া আলুর উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন ও রপ্তানি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের জন্য প্রস্তাব করা হয়।
পাশাপাশি হিমাগারগুলোর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিল স্থগিত রেখে পরবর্তীতে সারচার্জ ছাড়া কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ প্রদান এবং হিমাগারকে কৃষিভিত্তিক শিল্প বিবেচনা করে এ শিল্পের উৎস কর প্রত্যাহারের দাবি করা হয় প্রস্তাবে।