প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া খুলনার হাই-টেক পার্ক এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। অনুমোদনের প্রায় ৯ বছর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা নগরের রূপসার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় প্রায় ৪ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন এই প্রযুক্তি অবকাঠামো চালু হলে প্রতিবছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং তিন হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ভারত সরকারের অর্থায়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়া এ উদ্যোগের ব্যয় ধরা হয় ১৭০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ। দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সাততলা মূল ভবনের ছয়তলার কাজ শেষ হয়েছে। ভবন নির্মাণের অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ।
বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স গ্রুপের প্রকল্প ইনচার্জ বি এম হেদায়েতুল ইসলাম জানান, ভারতের লার্সেন অ্যান্ড টার্বো (এলঅ্যান্ডটি) প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের অধীনে কনফিডেন্স গ্রুপ সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
বি এম হেদায়েতুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে একই বছরের নভেম্বরে এলঅ্যান্ডটির ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল খুলনায় এসে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে পুনরায় কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে নির্মাণ কার্যক্রম চলছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৬ জুন আগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন সময় বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। মেয়াদ বাড়ানোর পর আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
খুলনার আইটি উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু একটি ভবন নয়, এটি হতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রযুক্তি অর্থনীতির কেন্দ্র। খুলনায় অবস্থিত এয়ারটেক আইটির সিইও শামীম বলেন, বর্তমানে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে। নতুন প্রকল্প এলেও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁরা বলেন, খুলনায় অনেক দক্ষ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবী রয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বড় প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেককে ঢাকামুখী হতে হয়। হাই-টেক পার্কে অফিস স্পেস, স্টার্টআপ সুবিধা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, সেমিনার, নেটওয়ার্কিং ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বড় পরিসরে কাজের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. নাসির উদ্দীন জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিসিসির আওতায় ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০০ তরুণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও খুলনায় বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন জানান, গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।