হোম > অর্থনীতি

ফেব্রুয়ারির বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে শতভাগ পোশাক কারখানায়, সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে প্রেস ব্রিফিং করে তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের এই সংগঠন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদের ছুটির আগেই সব পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)। এ ছাড়া বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ শতাংশ কারখানা চলতি মার্চেরও আংশিক বেতন দিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি তাদের।

রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আজ বুধবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের এই সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। ‘আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ বিষয়ে জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতিমধ্যে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস দিয়ে দিয়েছে। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম দিয়েছে। কারখানা ছুটির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিজিএমইএর সদস্যরা বরাবরই শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধ। আর তাই, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করেছি। আমাদের জানামতে, বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে।’

সরকারের বিশেষ নির্দেশনার কথা তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে নজরদারি আরও জোরদার করা হোক, যাতে কোনো পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে।

এ সময় বিজিএমইএ সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি- এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।’

ইনামুল হক খান আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনো নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, নাফিস উদ দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান, জোয়ার্দার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, এ বি এম সামছুদ্দিন, রশিদ আহমেদ হোসাইনী, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল ও সামিহা আজিম, বিজিএমইএর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং ওয়ান-স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া।

ভূরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণভোমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ

জেট ফুয়েলের দাম একলাফে বাড়ছে ৬০%, বাড়বে বিমানভাড়াও

ঈদের ছুটিতেও ব্যাংক খোলা যেসব এলাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার: পোশাকের দাম কমেছে ২.৬%

ঈদে ভোগাবে না বিদ্যুৎ, এপ্রিল নিয়ে আশঙ্কা

ঈদবাজারে বেড়েছে টাকার প্রবাহ

ওয়ালটন পণ্য কিনে উপহার পেলেন আরও ২৭ ক্রেতা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৮০ দিনের প্ল্যান শেয়ার করেছি: বিডা চেয়ারম্যান

সোনা বা ডলার নয়, ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

‘মিরসরাই মিডিয়া ক্লাব, ঢাকা’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা