সরকারি সড়ক উন্নয়নকাজের বিটুমিন সরবরাহে গ্রাহককে হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর সরিয়ে দেওয়া হলো যমুনা অয়েল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা মো. মাসুদুল ইসলামকে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জরুরি নির্দেশনায় যমুনা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) ও কোম্পানি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদুল ইসলামকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে যমুনা অয়েলের বিগত এক বছরে বিটুমিন সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি।
এ বিষয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আসার পর আজ বিপিসির পক্ষ থেকে তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার জন্য যমুনা অয়েল কোম্পানিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা অয়েল তাঁকে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিপিসি ও যমুনা অয়েলের অফিস আদেশ বলছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘মোলানীহাট-রামনাথ জিসি সড়ক’ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিটুমিন সংগ্রহ করতে জুয়েল ইলেকট্রনিকসের প্রতিনিধি মো. আবদুস সামাদ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে (চট্টগ্রাম) প্রয়োজনীয় পে-অর্ডার জমা দেন। এই সড়ক বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর (এলজিইডি) নিজ এলাকায়।
এ বিষয়ে আবদুস সামাদ বলেন, ‘পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৪৮ লাখ টাকা জমা দিয়েও আমি প্রথম দিকে বিটুমিন পাইনি। বারবার আমাকে ঘোরানো হয়। এরই মধ্যে বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ার পর ঠিকাদারকে বাড়তি আরও ২১ লাখ টাকা পরিশোধ করে বিটুমিন নিতে হয়েছে। আমাকে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় অভিযোগ দিয়েছি।’ তিনি জানান, পে-অর্ডার জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও যমুনার বিটুমিন কমিটি তাঁকে কোনো বরাদ্দ দেয়নি। ৫ মে তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে যমুনা ভবনে এসে দিনভর অপেক্ষা করেন। এ সময় বিটুমিন কমিটির আহ্বায়ক ও জিএম (মানবসম্পদ) মো. মাসুদুল ইসলাম তাঁকে সিরিয়াল নম্বর ৯৫ উল্লেখ করে বিটুমিন দিতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আজ বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে অভিযুক্ত মহাব্যবস্থাপককে অবিলম্বে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিপিসির এই নির্দেশের পরপরই বিকেলে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউছুফ হোসেন ভূঁইয়া একটি অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, মো. মাসুদুল ইসলামকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মো. মাসুদুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।