ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমেছে ৬৯ পয়েন্ট। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। সূচকের সঙ্গে কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম ও বাজার মূলধন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের মাঝামাঝি এসে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখায় মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সে ধারা অব্যাহত থাকে। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড দাপট দেখালেও বিপরীত পথে বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে পতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে সব কটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার পরও বড় দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৩টির। আর ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তাতে এক দিনেই বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৬৫টির এবং ২৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।