হোম > অর্থনীতি

বাজেট বাস্তবায়নে প্রত্যেকটা জায়গায় হোঁচট খেতে হবে: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামষ্টিক অর্থনীতির যে চলকগুলো ধরা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত হয়নি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের অনুমিতিগুলো দুর্বল। তাই প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে হোঁচট খেতে হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডির বাজেট পর্যালোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চলমান অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের বাজেটটি যখন দেওয়া হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি কী এবং আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অভিঘাত কী, তা স্পষ্ট করা ছিল। তারপরও আমরা সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরেছি, মুদ্রাস্ফীতি ধরেছি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আমরা ধরেছিলাম যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ছিল, সেটার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। আমাদের ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ৮৬ টাকা ছিল, তার পরিবর্তন হবে না। বছরের পর বছর এই অনুমিতি বা অনুমানগুলো সত্য হয় না। বাস্তবতার সঙ্গে মিল থাকে না। এর ভিত্তিতে যখন বাজেট করা হয় সেই বাজেটের পরিণতি সেটাই, যেটা অনুমিতির কারণে আগে থেকেই দুর্বল ছিল।’ 

এই বাজেটে বাস্তবতা বিবেচনা করা হয়নি জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন এবার সাড়ে ৭ শতাংশের জায়গায় ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়নের জায়গায় ৩১ বিলিয়ন (বর্তমানে ২৯ বিলিয়ন) হলো। ডলার এক্সচেঞ্জ রেট ৮৬ টাকার জায়গায় ১০৮ টাকা হলো। মুদ্রাস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশ বলা হয়েছিল তা সাড়ে ৮ শতাংশ হলো। বাস্তবতাকে বিবেচনা না করে আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতে বাজেট করলে এই রকম অবস্থা হয়।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন অর্থবছরের বাজেটের মূল উদ্দেশ্য থাকা উচিত ছিল চলমান অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতার সংকট রয়েছে—সেটা ঠিক করা। বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করছিল। কিন্তু তারপরে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো হলো, সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে বাজেট করার কারণে সমস্যাগুলো হলো। এবারের বাজেট যেসব অনুমিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে, সেসব জায়গায় দুর্বলতা থাকার কারণে বাজেট বাস্তবায়নে প্রত্যেকটা জায়গায় হোঁচট খেতে হবে।’ 

বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাস্তবসম্মত নয়

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রায় যে চমক দেখানো হয়েছে—তা উচ্চাভিলাষী, বাস্তবসম্মত নয়। গত দুই অর্থবছরের উন্নয়নের যে সূচক দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। নতুন অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অর্থবছরেও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। পরে এটাকে নামিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। 

ফাহমিদা বলেন, ‘আমরা যদি সরকারি বিনিয়োগের হার দেখি সেটা ৬ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ ২০২৪ সালের জন্য ধরা হয়েছে। কিন্তু আসলে ২০২৩ সালে আমরা দেখেছি, যেটা ধরা হয়েছিল, সেটা কম হয়েছে এখন পর্যন্ত এবং সেটা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এখান থেকে লাফ দিয়ে ২৭ শতাংশ কীভাবে হবে? সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা।’ 

মুদ্রা খাত ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে ফাহমিদা বলেন, ‘ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই বছরের ঋণপ্রবাহ যেটা ধরা হয়েছে, সেটা গত বছরের ধরা ঋণপ্রবাহের সঙ্গে মিলছে না। এ ছাড়া ব্যক্তি খাতের যে বিনিয়োগের হার ধরা হয়েছে সেটা এমন ঋণপ্রবাহ দিয়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ 

ফাহমিদা আরও বলেন, ‘নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি কমে গিয়ে সেটা ৬ শতাংশ হবে। এই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের কাছে উচ্চাকাঙ্ক্ষা মনে হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমদানি প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে পারফরম্যান্স ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেখা গেছে, তার থেকে আরও বেশি হবে বলে নতুন অর্থবছরের বাজেটে বলা হয়েছে।’ 

স্মার্ট বাজেটের জন্য স্মার্ট পুঁজিবাজারের উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার সম্পর্কে বলা হয়নি। বাজেটে বাজার নিয়ে কিছু থাকা উচিত ছিল বলে মনে করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজার এখনো উপযোগী নয়। পুঁজিবাজারকে যদি বাজার উপযোগী না করতে পারি, তাহলে এই বাজার দিয়ে কিছু আশা করতে পারি না। অনুদান ও সরকারের সাহায্যনির্ভর পুঁজিবাজার আসলে বেশি দিন টিকতে পারে না। আমার মনে হয়, অনুদান ও সাহায্যনির্ভর কাঠামো থেকে পুঁজিবাজারকে বের করে আনার জন্য স্মার্ট সংস্কারের উদ্যোগ দরকার।’ 

গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আইএমএফের সংস্কার কাঠামোর ভেতরে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কোনো শর্ত নেই। ফলে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত শব্দ বাজেটে নেই। স্মার্ট বাজেটের জন্য স্মার্ট পুঁজিবাজারের উদ্যোগ প্রয়োজন। 

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বেনিফিশিয়ারি ওনার্স নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে, সেকেন্ডারি মার্কেট, আইপিও, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়েও আপত্তি রয়েছে। সুতরাং, স্মার্ট পুঁজিবাজারের জন্য স্মার্ট সংস্কার করতে হবে।’

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি চায় ক্যাব যুব সংসদ

সমুদ্রসীমার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও উচ্চমাত্রার উদ্যোগ প্রয়োজন: মিডা চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ

ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমাল এনবিআর

মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিতে পারবে ৫০ কোটির প্রকল্প

শুল্কের কারণে আমদানি কমাচ্ছেন মার্কিন ক্রেতারা

সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার

সংকট কাটাতে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর পুনঃস্থাপন

শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন অ্যাডভোকেট এলিনা খান

ভোটের আগে অর্থনীতিকে তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রেখে যাচ্ছেন ড. ইউনূস