হোম > অর্থনীতি

পোশাক খাতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম

৫০ লাখ শ্রমিক নিয়ে বড় পরিকল্পনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে গতকাল ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায়’ উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাধারণত একজন পোশাক কারখানায় নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার কাজ সারার পাশাপাশি সমঝোতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার কাজও চালিয়ে নেন। এভাবেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিবাহিত হচ্ছে তাঁর কর্মজীবনের নিয়মিত রুটিন। বিনিময়ে মাস শেষে মেলে নির্ধারিত বেতন, তা দিয়েই চলে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা। যত দিন কাজ করেন, তত দিন তাঁর সংসারও সচল থাকে। কিন্তু যখন কর্মক্ষমতা হারান, কারখানাগুলোর বর্তমান প্রচলিত নিয়মে তাঁর আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সেভাবে থাকে না। সব কারখানায় সব শ্রমিকের ক্ষেত্রে এটিই বাস্তবতা।

দেশে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ পোশাকশ্রমিকের এই ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছিল। এখন সে উদ্যোগ বাস্তবেই রূপ নিতে যাচ্ছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনের নিজস্ব কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পোশাক কারখানার মালিক, কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন এবং সবাই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সদিচ্ছা প্রকাশ করেন।

পোশাকশিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে সম্মতি জানিয়ে বলা হয়, পোশাকশ্রমিকদের পেনশন স্কিমে নেওয়া সম্ভব হলে দীর্ঘ মেয়াদে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি এতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার উদ্যোগও শক্তিশালী হবে। তবে শিল্পমালিকেরা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এ-সংক্রান্ত বর্তমান আইনের সংস্কার দাবি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আইনে পেনশন পাওয়ার বয়স সবার ক্ষেত্রে ৬০ হলেও পোশাকশ্রমিকের ক্ষেত্রে তা ৫৫ বছর নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে শ্রমিকদের পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ বাড়াতে প্রক্রিয়ার প্রথম দুই বছর দিয়ে যেতে হবে সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা মূল প্রবন্ধে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বিধান রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের জন্য পেনশন হিসাব খোলার উদ্যোগ নিতে হবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকেরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। তিনি জানান, কোনো গ্রাহক পেনশন গ্রহণের বয়সের আগে মারা গেলে মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা পাবেন। আর্থিক অসুবিধা দেখা দিলে গ্রাহক চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও পাবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত পেনশনব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা এবং পোশাকশ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দেন।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ধারাবাহিকভাবে তা পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ।