হোম > অর্থনীতি

আইএমইডির প্রতিবেদন: দুই বছর ৭০ শতাংশের নিচে এডিপি বাস্তবায়ন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের গতি আরও কমেছে। টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের নিচে আটকে রয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি বিনিয়োগ এবং অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সহায়ক সরকারি ব্যয়ের গতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দ থাকলেও ব্যয়ের পরিমাণ এবং বাস্তবায়ন—দুটিই কমেছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাস্তবায়ন হার আরও কমেছে। আইএমইডির কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে অধিকাংশ অর্থবছরেই এডিপি বাস্তবায়নের হার ৮০ শতাংশের বেশি থাকত। সেই তুলনায় গত দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের এই নিম্নগতি উদ্বেগজনক।

বিগত পাঁচ বছরের তথ্যেও এডিপি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক অবনতির চিত্র স্পষ্ট। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বাস্তবায়ন হার কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ পয়েন্ট।

আইএমইডির কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়। সে সময় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দেয়। আইএমইডির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সেই অস্থিরতার প্রভাব বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও পুরোপুরি কাটেনি। পাশাপাশি নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মনোযোগ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কিছুটা সরে যায়। ফলে এডিপি বাস্তবায়ন আরও কমে যায়।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, শুধু জুন মাসেই এডিপি থেকে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই মাসে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ হাজার ৬১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ জুন মাসে বরাদ্দের তুলনায় ব্যয়ের হার কাছাকাছি থাকলেও ব্যয়ের প্রকৃত অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে কমেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি শুধু অবকাঠামো নির্মাণকেই পিছিয়ে দেয় না, একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পরিবহন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পানিসম্পদ খাতের প্রকল্পে বিলম্ব হলে তার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পড়ে। তাই শুধু এডিপির আকার বাড়ালেই হবে না, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে আইএমইডির সর্বশেষ প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে, বরাদ্দ বাড়লেও সেই অর্থ সময়মতো ব্যয় করার সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা—দুই নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংক: বাংলাদেশসহ দ. এশিয়ার অর্থনীতি ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা

এনএসইজেডে পানি প্রকল্প: দুর্বল পরিকল্পনায় তিন বছরের কাজ গড়াল সাত বছরে

খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল নিয়ে সিডিপির গবেষণা: ঘাটে ঘাটে বেড়ে দাম দ্বিগুণ,ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

দেশের প্রথম ডিজিটাল বাণিজ্য লেনদেনের সূচনা করল প্রাইম ব্যাংক

আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: প্রশাসনিক শূন্যতা কেটেছে, আস্থা ফেরেনি গ্রাহকদের

গ্যাস-সংকট: রপ্তানির ইঞ্জিনে জ্বালানির ধাক্কা

দেশে পেপল-পেওনিয়ারে লেনদেনের পথ খুলল

এনআরবি ব্যাংকের নতুন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও কিমিয়া সাদাত

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভিসার নিট রাজস্বে ১৪% প্রবৃদ্ধি