হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট ইউনিট, এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট ও রাষ্ট্রীয় গুদামে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন পণ্য বিশেষ ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টম হাউস, ঢাকা। কর্ম উপযোগিতা ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার কাস্টম হাউস ঢাকার প্রকাশিত বিশেষ ই-নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ আদেশের আলোকে এয়ারফ্রেইট ইউনিট, এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট ও রাষ্ট্রীয় গুদামে সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য ‘যেখানে যে অবস্থায় আছে’ ভিত্তিতে নিলামে বিক্রি করা হবে। নিলাম কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ জুন সকাল ৯টা থেকে ২ জুলাই বেলা ১টা পর্যন্ত আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের ই-অকশন ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নিলামে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্রেতাদের নিলামে অংশগ্রহণের আগে সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের কার্গো ও এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পণ্য স্থানসংকট সৃষ্টি করছে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পণ্য সংরক্ষণ ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। এসব সমস্যা দূর করে গুদাম ব্যবস্থাপনায় গতি আনতেই বিশেষ ই-নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ের দরদাতাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ ও হালনাগাদ আয়কর রিটার্নের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের দরদাতাদের ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
নিলামসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পণ্যের দরমূল্যের অন্তত ১০ শতাংশ জামানত হিসেবে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে। অনলাইনে স্ক্যান কপি আপলোডের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কপিও জমা দিতে হবে। অন্যথায় দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত অফিস চলাকালে নিলামে অন্তর্ভুক্ত পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শন করা যাবে। এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটে সংরক্ষিত পণ্য দেখতে আগ্রহী বিডারদের বিমানবন্দর নিরাপত্তা পাস সংগ্রহের জন্য ২১ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
কাস্টম হাউস জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নিলাম করা পণ্য খালাস দেওয়া হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ দরদাতাকে প্রচলিত হারে অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।
তবে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো সময় আংশিক বা সম্পূর্ণ নিলাম স্থগিত কিংবা বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।