তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের বিপরীতে লিয়েন রেখে এত দিন ব্যাংকগুলোকে যে স্বল্পমেয়াদি তারল্য বা নগদ অর্থ সংগ্রহে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো, তা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঋণ বা পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা পেতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা সম্পত্তির নির্দিষ্ট একটি অংশ আটকে রাখা বা ব্লক করাকে বলে লিয়েন।
টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার ডিসকাউন্টিং বা সংক্ষেপে টিটি ডিসকাউন্টিং হলো—বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি তারল্য বা নগদ অর্থ সংগ্রহের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে বা সিকিউরিটি ছাড়াই জরুরি নগদ প্রয়োজনের সময় অর্থ ধার পেত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনায় কলমানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন কার্যকর অর্থায়নের উৎস বিদ্যমান। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা বহাল রাখার আর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধার ব্যবহারও ছিল খুবই সীমিত। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে প্রদত্ত টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।