হোম > অর্থনীতি

ই-কমার্সে ৫৮ হাজার অভিযোগ, দাবির অঙ্ক ৩৮৬৯ কোটি টাকা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবির অঙ্ক প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা প্রায় ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে এসব তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ও পরে অনলাইন বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার হয়েছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি বা ডিবিআইডি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করা হয়। ডিবিআইডি দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবি করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ চলছে।

অভিযোগকারী, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট গেটওয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এসব টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

ই-কমার্সে লেনদেন নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ ‘মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও এসক্রো সেবা নীতিমালা’ করেছে বলেও সংসদে জানানো হয়। এস্ক্রো ব্যবস্থায় গ্রাহকের দেওয়া অর্থ সরাসরি বিক্রেতার হাতে যায় না। পণ্য বা সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থ ছাড় করা হয়। ই-কমার্স খাতের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা বন্ধে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা সরকারের আছে। তবে এ কর্তৃপক্ষ গঠন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে অধিদপ্তরকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।