হোম > অর্থনীতি

১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল বিএসইসি, পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

১৭ কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

গত বছরের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসি এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিক আদেশপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিঠি গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এর পরদিন ৫ মার্চ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করে সংস্থাটির একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় কমিশনের সভাকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে কয়েক দিন ধরে বিএসইসির কার্যক্রমে অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তৎকালীন চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান মামলাটির বাদী ছিলেন।

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্ত শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বিএসইসিতে পাঠানো হয়।

এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাকি ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

ঘটনার পর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভা চলাকালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক সেখানে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কমিশনের প্রধান ফটকে তালা লাগানো হয়, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই, লিফট এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কমিশনের ভেতরে অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএসইসি বা সরকারের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ এবং সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।