হোম > অর্থনীতি

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন: ক্রেডিট কার্ডে খরচের ১৮ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে

মৃত্তিকা সাহা, ঢাকা

প্রতীকী ছবি

বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন তথ্যমতে, চলতি বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডধারীরা বিদেশে মোট ৫২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ সময় দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যে পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, তার ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশই এককভাবে খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ বিদেশে কার্ডে খরচ হওয়া প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১৮ টাকা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় চলতি বছর জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দেশের বাইরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে মাধ্যমে মোট লেনদেন কম হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। জুনের ৫৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকার তুলনায় জুলাইয়ে বিদেশি লেনদেন কমেছে ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

দেশভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের পর রয়েছে থাইল্যান্ড। দেশটিতে লেনদেনের ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছে। এরপর যুক্তরাজ্যে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ভারতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। কানাডায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, চীনে ৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে কেনাকাটা ও সেবায়। জুলাইয়ে লেনদেনের ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। রিটেইল আউটলেট সার্ভিসে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, পরিবহনে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পোশাকের দোকানে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ খরচ হয়েছে। ব্যবসায়িক সেবায় ব্যয় হয়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে কার্ড ব্যবহারের প্রবৃদ্ধির পেছনে বিদেশ ভ্রমণ বাড়া এবং ডলার সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিদেশ ভ্রমণ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ প্রয়োজনে বিদেশযাত্রা বাড়ায় কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেনও বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে ডলার সরবরাহ আগের তুলনায় সহজ হওয়ায় লেনদেন স্বাভাবিক হয়েছে।

বিদেশে কার্ড ব্যবহারের সুযোগও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, এত দিন একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডে বিদেশে ব্যয় করতে পারতেন। সম্প্রতি এ সীমা বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে।

শুধু ক্রেডিট কার্ড নয়, বিদেশে ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডেও যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে। জুলাইয়ে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি লেনদেনের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তিন ধরনের কার্ড মিলিয়ে বিদেশে মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ হয়েছে দেশটিতে।

অন্যদিকে দেশেও জুলাইয়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই ব্যবহার বাড়ার পেছনে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। এ চাপ থেকে সাময়িক পরিত্রাণ পেতেই অনেকে ক্রেডিট কার্ডের দিকে ঝুঁকছেন। তবে ঋণনির্ভর খরচ বাড়লে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা সম্মিলিতভাবে ৯৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে মোট লেনদেন বেড়েছে ১০৮ শতাংশ। জুলাই শেষে দেশে ডেবিট কার্ড ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ, ক্রেডিট কার্ড ২৭ লাখ এবং প্রিপেইড কার্ড ৯১ লাখ।