ঈদের বাড়তি চাহিদার কারণে রাজধানীর গরু ও খাসির মাংসের বাজারে হুলুস্থুল অবস্থা। গত দুই দিনে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৫০-১০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সোনালি মুরগির দাম রেকর্ড ভেঙে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁও, মানিকনগর, মুগদা, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন বাজার থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়। রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা কেজি। কোথাও কোথাও ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। যদিও কোনো কোনো ব্যবসায়ী কিছুটা ছাড় দিয়ে ৭৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হাট থেকে গরু কেনার খরচ বেড়েছে। তাই মাংসের দামও বাড়াতে হয়েছে। তবে গরু কেনায় খরচ কতটা বেড়েছে, তার কোনো হিসাব দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এমনকি দামের বিষয়ে তেমন কথাও বলতে চাইছেন না তাঁরা।
বাজারের তথ্য বলছে, রমজান মাস এলেই গরুর মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে এই সময় এক দফা দাম বাড়ে। রমজান শেষে ঈদ উপলক্ষে গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ে আরেক দফা। সেই সঙ্গে দামও।
রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৯০০ টাকা কেজি। মালিবাগ, খিলগাঁও রেলগেট, শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি। এসব বাজারে রমজান শুরুর আগে দাম বেড়ে মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি। এবার ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দাম আরেক দফা বাড়ল।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি। এই বাজারে দুই থেকে তিন দিন আগেও ৮০০ টাকায় মাংস পাওয়া গেছে।
তবে মুগদা বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা কেজি। এই বাজারে দুই থেকে তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি। মুগদা বাজারে সালাম মাংস বিতানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা কেজি। জানতে চাইলে দোকানের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বাড়িয়েছি। এটুকু না বাড়ালে এখন পোষাবে না। আশপাশে ৮৫০ করে বিক্রি করছে। আমরা চাইলে ওই দামেও বিক্রি করতে পারতাম। কেউ এসব দেখার আছে?’
রাজধানীর ভাষানটেকের মজুমদার মোড়ে অস্থায়ীভাবে গরুর মাংস বিক্রি করছেন আব্দুর রব। আজ বেলা ১২টার দিকে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাংসের কেজি ৮০০ টাকা। এতদিন আগের দামেই বিক্রি করেছি। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে কিছুটা দাম বাড়িয়েছি।’
ঈদকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ শতাংশের বেশি চাহিদা বেড়েছে বলে দাবি খিলগাঁও তালতলা বাজারে মাংসের ব্যবসায়ী শহিদুলের। তিনি বলেন, ‘এমনিতে আমাদের প্রতিদিন ৩-৪টি গরু হলেও চলত। কিন্তু এখন দুপুরেই আমাদের ১০টা গরু বিক্রি শেষ। সে হিসাবে চাহিদা কতটা বেড়েছে বুঝে দেখেন।’
গরুর মাংসের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে খাসি ও মুরগির মাংসের দামও। বাজারে খাসি বিক্রি হচ্ছে আগের চেয়ে ১০০ টাকা বাড়তি দামে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা ছিল।
সোনালি মুরগির দাম এযাবৎকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি পর্যন্ত; যা কয়েক দিন আগেও ৩৫০ টাকা ছিল। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম স্থির রয়েছে ২২০-২৩০ টাকা কেজিতে।