হোম > অর্থনীতি

সংশোধিত প্রজ্ঞাপন

সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

সুগন্ধি চালের স্থানীয় বাজারদর দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ কম। কৃষকেরা দাবি করেছেন, তাঁদের হাতে কোনো সুগন্ধি চালের মজুত নেই, সবই বিক্রি করে দিয়েছেন। কৃষকের পাশাপাশি বিক্রেতাদেরও অভিযোগ, বাজারে সুগন্ধি চালের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। এ খাতের বড় ব্যবসায়ীরা রপ্তানির ধুয়ো তুলে বিপুল পরিমাণ মজুত গড়েছেন। এদিকে সরকারি ভাষ্যমতে, বেশির ভাগ ব্যবসায়ীই সরকারের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী রপ্তানি করছেন না। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে আগের অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকদের কেউ আর আগের অনুমোদিত কোটার অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

এর আগে চলতি বছর দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত: এদিকে রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আরোপিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতে হবে।

সংশোধিত অনুমোদনের বেশি পরিমাণের চাল রপ্তানি করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানি মূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলারের নিচে নির্ধারণ করা যাবে না। অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কারও কাছে হস্তান্তরযোগ্য হবে না। সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ থাকবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

এ ছাড়া রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসন সনদ বা পিআরসি দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।