দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের হোম ডেকোর ও লাইফস্টাইল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ব্রাজিলে ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতায় এবং ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সাও পাওলোর ডিস্ট্রিটো আনহেমবি প্রাঙ্গণে গতকাল মঙ্গলবার এ মেলা শুরু হয়েছে। মেলা চলবে আগামীকাল ১৩ আগস্ট পর্যন্ত।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ এই মেলায় বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি বুথে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস।
এ ছাড়া একটি পৃথক বুথে ইপিবি ও বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যের ব্রশিওর, লিফলেট ও প্রকাশনা প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রসার ও প্রচার নিয়ে বিভিন্ন তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত পণ্য, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, হোম ডেকর, বাঁশজাত পণ্য, টেরাকোটা ও মাটির তৈরি সামগ্রী এবং নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করছে।
গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা, ব্রাজিলের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা, মেলার আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এ সময় বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসায়ী (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশের স্টল ঘুরে বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং পণ্যগুলোর প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশি পণ্য কেনার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
মেলার সাইডলাইন আয়োজন হিসেবে আজ ১২ আগস্ট বাংলাদেশের ‘হোম ও লাইফস্টাইল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি’ বিষয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে ব্রাজিলের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিদেশি ক্রেতারা অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের ফলে লাতিন আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের হোম ডেকোর ও লাইফস্টাইল পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।