কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন বাজার খুঁজছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির লক্ষ্যে নিকটবর্তী শ্রীলঙ্কাকে সেই নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ দুটি পণ্যসহ আরও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনা যাচাই করতে শিগগির শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠাবে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, খাদ্যনিরাপত্তা ও সমবায় উন্নয়নমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে এক সাইড ইভেন্টে এই বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা, শ্রীলঙ্কার বাজারে আলুর মূল্য পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দেশে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু ও পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকে। এসব পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি করা প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের খুচরা বাজারে নতুন আলু কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম উৎপাদনমূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য জোরদার হলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
শ্রীলঙ্কার বাজারে আলুর চাহিদা, দাম ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে পটেটো অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। প্রতিনিধিদলটি স্থানীয় ব্যবসায়ী, ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের বেসরকারি খাতকে শ্রীলঙ্কার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে বছরজুড়ে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে শ্রীলঙ্কায় গুদামজাতকরণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরির সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।
দুই পক্ষের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষকেরা উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং শ্রীলঙ্কার ভোক্তারাও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে আলু কেনার সুযোগ পাবেন।