হোম > অর্থনীতি

রোজার বাজার: সরবরাহ সংকটে দামে ঊর্ধ্বগতি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আড়ত থেকে পণ্য ওঠানো হচ্ছে ট্রাকে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের সব বড় শহরের খুচরা বাজারে সবজি, মাছ, মুরগি, মসলা ও ইফতারসামগ্রীর দামে ঊর্ধ্বগতি। বন্দরকেন্দ্রিক অচলাবস্থা, নির্বাচনকালীন ছুটি ও পরিবহনসংকটে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, রমজানের প্রধান ভোগ্যপণ্য ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও গমের আমদানি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত আড়াই মাসে (গত ১ ডিসেম্বর-১৪ ফেব্রুয়ারি) সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ হাজার টন বেশি। পাশাপাশি সয়াবিনবীজ আমদানি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৭৪ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা থেকে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার টন সয়াবিন তেল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন হলেও আমদানির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি।

চিনির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রমজানে প্রায় ৩ লাখ টন চিনির চাহিদার বিপরীতে গত আড়াই মাসে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ছোলার চাহিদা প্রায় ১ লাখ টন হলেও গত আড়াই মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন।

আমদানি বাড়লেও সরবরাহ বাড়েনি। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, রমজানের পণ্যের আমদানি ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু চলতি বছর বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন, লাইটার জাহাজ সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে পণ্য খালাস ও বাজারজাতকরণে বিলম্ব হয়েছে। ফলে আমদানি করা পণ্য সময়মতো কারখানা ও গুদামে পৌঁছাতে না পারায় পাইকারি বাজারে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি: আমদানি বাড়লেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। খেসারি ৭৮ টাকা, মটর ডাল ৫২ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশে উৎপাদিত পণ্যের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। রমজানে চাহিদাসংশ্লিষ্ট সবজির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চট্টগ্রামে কাঁচা মরিচ কেজি ২০০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ও শসা ৬০-৮০ টাকা এবং লেবুর হালি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং আদা ১৩০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর চকবাজারে বাজার করতে আসা নুসরাত জাহানের অভিযোগ, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও রমজানের বাড়তি চাহিদাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাতলা ৪৫০-৫০০ টাকা, রুই-মৃগেল ৪০০-৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানের পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার তুলনায় মোটামুটি পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারজাতকরণে সাময়িক ব্যত্যয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রোজার শুরুতেই পণ্যমূল্যে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রধান পাইকারি কেন্দ্র চকবাজার ও মৌলভীবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খেসারি ডালের কেজি প্রায় ৮৫-৯০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে, আর দেশি রসুন ৯০-১০০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। আমদানি করা রসুন ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৬০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা, ছোলার বেসন ৮০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খেজুর নিয়ে উভয়সংকট

পবিত্র রমজানে খেজুরের চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। তবে আমদানি হয়েছে ৩৯ হাজার টন। খেজুর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইমাম ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, শুল্ক কমানোর পর আমদানি শুরু হয়েছে এবং পাইপলাইনে থাকা পণ্য বাজারে এলে সরবরাহ আরও বাড়বে। গত বছরের মজুত থাকায় খেজুর নিয়ে বড় সংকটের আশঙ্কা নেই।

তবে বাজারে গিয়ে এর ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফলমন্ডির পাইকারি খেজুর বিক্রেতা ও আরএম ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী রহমত আলী জানান, নির্বাচনের আগের সপ্তাহ পর্যন্ত খেজুরের দাম স্বাভাবিক থাকলেও গত কয়েক দিনে মানভেদে কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের খেজুর ২৮০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ভালোবাসা দিবসে চেরির ‘ডেলিভারিং লাভস’

দেশের ২৯টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে যুক্ত হলো নগদ, বিল দিন নিমেষেই

নির্বাচনে বিএনপির বিজয় উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়ল ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

রমজানে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে নতুন সময়সূচি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডিএসই

রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে পাঁচ পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

‘নতুন সরকার গঠনের মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান স্বার্থসংঘাতপূর্ণ’

ডলারের দাপটে চাপে সোনা

ফেসবুক-ইউটিউবে টাকার ‘নমুনা নোট’ নিয়ে ভিডিও-ছবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত