হোম > অর্থনীতি

নিরাপদ ফল: মধুপুরের আনারস যাচ্ছে বিদেশে

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 

আনারস বিক্রির জন্য ভ্যানে করে বাজারে এনে রেখেছেন কৃষকেরা। টাঙ্গাইলের মধুপুরের গারোবাজার থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘হানি কুইন’খ্যাত মধুপুরের আনারস এবার জায়গা করে নিচ্ছে বিদেশের বাজারে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত আনারস চলতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়েছে। জার্মানি ও চীনে রপ্তানিরও প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ‘গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস’ (জিএপি) কর্মসূচির আওতায় মাটি ও পানির পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনের মাধ্যমে নিরাপদ আনারস উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মধুপুরে চলতি মৌসুমে ১২ একর জমিতে নিরাপদ আনারস উৎপাদন করা হয়েছে। এসব বাগানের আনারস ইতিমধ্যে বিদেশে পাঠানো শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মধুপুরের কয়েকটি আনারসবাগান পরিদর্শন করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের প্ল্যান্ট প্রটেকশন অধিদপ্তরের কীটতত্ত্ববিদ মোহাম্মদ আকীদ মেহদী। তিনি আনারসের উৎপাদন পদ্ধতি, স্বাদ ও মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশে উৎপাদিত আনারস তাঁর কাছে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত মনে হয়েছে। দেশে ফিরে তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এরপর দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি হলে পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৪২ সালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য মিজি দয়াময়ী সাংমা ভারতের মেঘালয় থেকে ৭৫০টি চারা এনে মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামে প্রথম আনারসের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে ক্যালেন্ডার বা জায়ান্ট কিউ জাতের আনারস ৪ হাজার ৩৭৫ হেক্টর, জলডুগি ২ হাজার ২৪৫ হেক্টর এবং এমডি-২ জাতের আনারস ১৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় আড়াই লাখ টন আনারস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বিভিন্ন ফল ও ফসল উৎপাদন করছেন। তিনি মধুপুরে পাঁচ একর এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে আট একর জমিতে নিরাপদ আনারস চাষ করেছেন। তাঁর বাগানের আনারস জার্মানিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ল্যাব পরীক্ষা ও রপ্তানির অন্যান্য প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ আনারস উৎপাদনে আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। এবার জার্মানিতে আনারস পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। এটি সফল হলে বিদেশের বাজারে আরও বড় পরিসরে আনারস রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।’

মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা তাজমী নূর রাত্রি বলেন, মধুপুরের আনারসচাষি-ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। কৃষকদের সেই অভ্যাস থেকে বের করে নিরাপদ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত আনারস চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জিএপি কর্মসূচির আওতায় ১২ একর জমিতে নিরাপদ আনারস উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইসহ কয়েকটি দেশে প্রায় ৬ হাজার আনারস পাঠানো হয়েছে।

তাজমী নূর রাত্রি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল মধুপুরের আনারসবাগান পরিদর্শন করে উৎপাদন পদ্ধতি ও আনারসের মান যাচাই করেছে। তারা বাগানে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও রোগবালাইয়ের উপস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, মধুপুরে প্রচুর সুস্বাদু আনারস উৎপাদিত হয়। নিরাপদ আনারস উৎপাদনে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশে মধুপুরের আনারস পাঠানো হয়েছে। বিদেশের বাজার সম্প্রসারিত হলে কৃষকের পাশাপাশি দেশও লাভবান হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন: অতি ধনীদের আমানত কমে বাড়ছে ছোট ও মাঝারিদের

‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আইএফআইসি ব্যাংকের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

টানা দুই দফা বৃদ্ধির পর সোনার দাম কমল ৩৩২৪ টাকা

বিনিয়োগ পাইপলাইন থেকে এসেছে ৪০ কোটি ডলার

সমন্বিত মহাপরিকল্পনা: প্রবৃদ্ধির নতুন কেন্দ্র কক্সবাজার

বাংলাদেশ ব্যাংক: ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ৪২% খেলাপি

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়তে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ

জনতা ব্যাংকের ৮৯৫তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

সাউথইস্ট ব্যাংকের ইজিএম ও এজিএম অনুষ্ঠিত

মিরপুরে নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার চালু