অর্থবছর শেষ হলেও উন্নয়ন বরাদ্দের অর্ধেকও খরচ করতে পারেনি সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাদের বাস্তবায়ন হার ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশের মধ্যে। সবচেয়ে কম ব্যয় হয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এবং সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত ‘সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন: ২০২৫-২০২৬-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।
কম বাস্তবায়ন করা ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২৯ দশমিক ৫৯, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৩৩ দশমিক ২৯, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৩৬ দশমিক ৮৮ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাস্তবায়ন হার ৩৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪০ দশমিক ৬৪, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ৪২ দশমিক ৭৩, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ৪৬ দশমিক ৩২ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ।
সংশোধিত এডিপিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে সার্বিক বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বড় বরাদ্দ পাওয়া কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়নও খুব বেশি নয়। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ বাস্তবায়ন করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হার ৬০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৬৬ দশমিক ৩০ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অর্থবছর শেষেও উন্নয়ন বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় করতে না পারা প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প পরিচালকদের ঘন ঘন বদলি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে সময়মতো বরাদ্দ ব্যয় করা যায় না।
ফাহমিদা খাতুনের মতে, উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়ানো যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতাও প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
সামগ্রিক এডিপি বাস্তবায়নের হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশের চেয়ে কম। আইএমইডির হিসাবে গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার।
এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কর্মপরিকল্পনা জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি আজকের পত্রিকাকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ড্যাশবোর্ডে তুলে ধরা হবে। এর ভিত্তিতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।