দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়াতে এবং খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে নতুন কর-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশীয় তেলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্পকে ১০ বছরের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে করনীতিকে শুধু রাজস্ব আহরণের হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না। খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানিনিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জাতীয় অগ্রাধিকার অর্জনেও করনীতিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এ লক্ষ্যে দেশীয় তেলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ কর-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি পাবে। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের দুই বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতি ভোগ করতে পারবে। ফলে মোট ১০ বছর ধরে এ খাত কর-সুবিধার আওতায় থাকবে।
সরকারের আশা, এই প্রণোদনার ফলে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশে তেলবীজ চাষ সম্প্রসারণ, স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভোজ্যতেল উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার বড় অংশ এখনো আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। নতুন কর-সুবিধা দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করলে কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্প এবং ভোক্তা—সব পক্ষই এর সুফল পেতে পারে।