হোম > অর্থনীতি

আন্তমন্ত্রণালয় সভা: শাহজালালে কার্গোজট কাটাতে ১১ ওয়্যারহাউস

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য খালাসের জটিলতা নিরসনে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য সাতটি এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধসহ তাপমাত্রা সংবেদনশীল পণ্য দ্রুত আমদানি-রপ্তানির জন্য বিমানবন্দরে কোল্ডস্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ওয়্যারহাউস নির্মাণ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম উপস্থিত ছিলেন। সভায় কার্গো ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলো যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওষুধের জন্য কোল্ডস্টোরেজ

ওষুধ আমদানি-রপ্তানি দ্রুত ও নিরাপদ করতে কোল্ডস্টোরেজ অবকাঠামো তৈরির বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। সভায় দাবি করা হয়, তাপমাত্রা সংবেদনশীল ওষুধ দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকলে পণ্যের মান ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ চালু হলে এসব পণ্য দ্রুত খালাস করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আমদানি করা পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মডেল তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।

কার্গো ব্যবস্থাপনায় এআই

সভায় কার্গো পণ্য দ্রুত খালাসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু অনুসরণকারী হিসেবে থাকতে চায় না, বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। দ্রুত কার্গো খালাসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র ও শুল্ক নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।