হোম > অর্থনীতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য

বাংলা কিউআরে বাড়ছে ক্যাশলেস লেনদেন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ দ্রুত নগদ অর্থের বিকল্প হয়ে উঠছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে একক কিউআর ব্যবস্থায় আসার পর ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা একই কিউআর দিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এতে পৃথক প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর ব্যবহারের প্রয়োজন কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত দুই মাসে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থমূল্য—দুটিই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মার্চেন্টের সংখ্যাও। ফলে ডিজিটাল পেমেন্টে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রায় দুই মাসে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে ৭০ শতাংশ। ১ জুলাই দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার লেনদেন যোগ হয়েছে।

শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, এর আর্থিক মূল্যও দ্রুত বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে দৈনিক লেনদেনের অর্থমূল্য। সংখ্যার তুলনায় অর্থমূল্যের এই বেশি প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, বাংলা কিউআরে ছোটখাটো কেনাকাটার পাশাপাশি তুলনামূলক বড় অঙ্কের লেনদেনও বাড়ছে।

ব্যবহারের পরিধি বাড়ার আরেকটি বড় ইঙ্গিত মিলেছে মার্চেন্ট সংখ্যায়। ১ জুলাই দেশে বাংলা কিউআর মার্চেন্ট ছিল ১৬ লাখ। গত সপ্তাহে তা বেড়ে ৩০ লাখে পৌঁছেছে। দুই মাসে যুক্ত হয়েছে ১৪ লাখ নতুন মার্চেন্ট; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে গ্রাহকের সামনে বাংলা কিউআরে অর্থ পরিশোধের সুযোগও দ্রুত বেড়েছে।

এই বিস্তারের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একক কিউআর চালুর উদ্যোগ। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল একটি অভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থ গ্রহণকে সহজ করা এবং নগদের বিকল্প হিসেবে কিউআর পেমেন্টকে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।

শুরুতেই ব্যবহারের সাড়া পাওয়া যায়। বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৭৭ হাজারের বেশি লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ২২ কোটি টাকার বেশি। এরপর মার্চেন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থ গ্রহণকারীদের খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার তহবিলও গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান গত তিন মাসে ১০টির বেশি বাংলা কিউআর প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে শুধু মার্চেন্ট বাড়ানো যথেষ্ট নয়। নিয়মিত গ্রাহক ব্যবহার, নিরাপদ লেনদেন, নিরবচ্ছিন্ন সেবা, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ক্ষুদ্র ও প্রত্যন্ত ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।